নজর২৪ ডেস্ক- দেশের উত্তরাঞ্চলে বাড়তে শুরু করেছে শীত। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসেই সর্বোচ্চ তিনটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে জানুয়ারিতে কম বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এই পূর্বাভাস দিয়েছে। রোববার (২ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কমিটির নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষজ্ঞ কমিটির চলতি মাসের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
এতে আরও বলা হয়, এ মাসে দেশে ২ থেকে ৩টি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্য প্রবাহে রূপ নিতে পারে। এ মাসে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম থাকতে পারে।
জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা বা মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি কখনো কখনো দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
চলতি মাসে দেশের সব প্রধান নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান জানান, জানুয়ারি মাসে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। যার মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ রূপ নিতে পারে।
বড় এলাকাজুড়ে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে।
রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় ঢাকায় পারদ নেমেছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া বরিশাল, যশোর, তেঁতুলিয়া, রংপুর, রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, মাদারীপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে।
চলতি মৌসুমে ২০ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে সময় এ তিন দিন গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশাল অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ ছিল।
এরপর বছরের শেষ দিনে মৌসুমের দ্বিতীয় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে। শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, “এখন কাগজে কলমে শৈত্যপ্রবাহ নেই। তবে উত্তরী হাওয়া বেশ থাকায় ও কুয়াশার দাপটে শীতের অনুভূতিও বেশ রাতে ও সকালে। এমন আবহাওয়া আরও দু’দিন থাকবে।
