খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতার পরিবর্তন হবে: নুর

নজর২৪, ঢাকা- গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে। এই মাফিয়াদের নির্মম পতন হবে। সেদিন প্রতিটি আঘাতের কড়ায়-গন্ডায় শোধ নেয়া হবে। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে।

 

২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনের সামনে সাবেক ভিপি নুর ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশ ও আলোকচিত্র প্রদর্শন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল মিয়া ও ঢাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক আদীব, সিনিয়র সহসভাপতি আসিফ মাহমুদ, সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন প্রমুখ।

 

ছাত্রলীগের সমালোচনা করে নুর বলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি ফাঁকা। গত ২০ বছরে ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন এমন ২০ জনের পিএইচডি ডিগ্রি আছে তা তারা দেখাতে পারবে না। কিন্তু ২০ বছরে ছাত্রলীগের খুন-সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি এমন হাজার অপকর্মের ফিরিস্তি দেয়া যাবে।’

 

২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনে ভিপির রুমে বাতি নিভিয়ে নুরুল হক নুরসহ তার সঙ্গীদের ওপর হামলা হয়। অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সেদিন হামলায় নূরসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

 

সেই হামলার আজও বিচার না হওয়ায় এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সমাবেশে হামলার বিভিন্ন আলোকচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

 

হামলার ঘটনা তদন্তে পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়। তদন্ত কমিটিকে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে দুই বছরেও তদন্ত শেষ হয়নি।

 

এ প্রসঙ্গে নুরুল হক নূর বলেন, ‘ছয় কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। সেই তদন্ত দুই বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। আপনারা কি বুঝতে পারছেন, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে?

 

‘হামলার বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশনা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানত। আমি তাৎক্ষণিক প্রক্টর স্যারকে ফোন করেছিলাম, উপাচার্য স্যারকে ফোন করেছিলাম। সেদিন কাউকেই ফোনে পাইনি।’

 

নূর বলেন, ‘ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদ করায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দালাল, উগ্র হিন্দুত্ববাদের দোসরেরা সেদিন ডাকসু ভবনে আমাদের ওপর হামলা করে।

 

‘রাজু ভাস্কর্যে দাঁড়িয়ে ছাত্রলীগ স্লোগান দেয়, একটা একটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর। শিবির যদি নিষিদ্ধ সংগঠন হয়, তাদের আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করুন। কিন্তু একটা সংগঠন কীভাবে মানুষকে জবাই করার স্লোগান দেয়?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *