নজর২৪, ঢাকা- বঙ্গবন্ধুর দেয়া পররাষ্ট্রনীতি মেনেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে যাচ্ছি। তা ছাড়া, সমগ্র বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনীতে অবদান রেখে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন খুব সফলভাবে বাংলাদেশে আয়োজন করেছি এবং সুদূরপ্রসারী ঢাকা ঘোষণা আমরা গ্রহণ করেছি।’
বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু মেডেল ফর ডিপ্লোম্যাটিক এক্সিলেন্স’ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সম্পাদিত ‘শেখ হাসিনা বিমুগ্ধ বিস্ময়’ নামের একটি গ্রন্থ তুলে ধরা হয়। চন্দ্রাবতী অ্যাকাডেমি থেকে প্রকাশিত বইটিতে স্থান পেয়েছে ৭৫ লেখকের ৭৫টি প্রবন্ধ ও ৭৫টি দুর্লভ আলোকচিত্র।
বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমার জন্য বই, আমার জন্মদিন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি কোনো কিছু চাই না। আমার জন্য কিছু করা হোক, সেটাও আমার কামনা না। আমি জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।’
৭৫-এর ১৫ আগস্টের নির্মমতার কথা স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। ভারাক্রান্ত গলায় তিনি বলেন, ‘আমি তো আমার বাবা-মা সব হারিয়েছি, কিন্তু আমি একটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যত কষ্ট, যত আঘাত, বাধা আসুক; যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। দারিদ্র্য বলে, মঙ্গা বলে দেশে কিছু থাকবে না।’
‘বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে, উন্নত জীবন পাবে’- এটাকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই লক্ষ্য স্থির রেখে আমার পথ চলা। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ একদিন উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। এটাই হচ্ছে আমাদের বড় অর্জন। বাংলাদেশকে আমরা সামনের দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
