Home বিনোদন এই সমাজ পুরুষকে বাহবা দেয় আর নারীকে দেয় লজ্জা: শবনম ফারিয়া

এই সমাজ পুরুষকে বাহবা দেয় আর নারীকে দেয় লজ্জা: শবনম ফারিয়া

0
121

বিনোদন ডেস্ক- বিয়ের ঠিক এক বছর নয় মাসের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার। বর হারুন অর রশীদ অপুকে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ডিভোর্স দেন তিনি। ওই সময় এই অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, দু’জনের সম্মতিতেই এই বিচ্ছেদ হয়েছে।

 

তবে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য শবনম ফারিয়া সামনে আনলেন। সেখানে স্পষ্ট স্বামীর নির্যাতনের কারণেই সংসার ত্যাগ করতে বাঁধ্য হয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। শুধু নির্যাতনই নয়, হাতও ভেঙে দিয়েছিলেন তার স্বামী।

 

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইলমার নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গেই ফারিয়া কণ্ঠশিল্পী লোপার একটি পোস্ট শেয়ার করে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা উল্লেখ করেন।

 

এরপরই চারদিকে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। পুরো বিষয়টি নিয়ে তাই আবারও ব্যাখ্যা দিলেন শবনম ফারিয়া। তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টা পরিষ্কার করা দরকার। কারো ভাবমূর্তি নষ্ট করার কিংবা অ্যাটেনশন পাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না (যদিও আমি না চাইলেও বরাবরই অ্যাটেনশন পেয়ে যাই)। আগের পোস্টটি দেয়ার মূল কারণ হলো, আমাদের সমাজের দিকে আঙুল তোলা।’

 

ফারিয়া নিজেও ডিভোর্সের পক্ষে নন। কেউ তার কাছে এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলে, তিনি সময় নিয়ে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। ফারিয়া বলেন, “বিয়ে একটি অসাধারণ ব্যাপার। সুতরাং আমরা বিচ্ছেদকে নিরুৎসাহিত করি। এমনকি আমার কোনো বন্ধু যদি ডিভোর্সের ব্যাপারে বলে, আমি তাদেরকে প্রথমেই বলি, ‘সময় নাও’। কেউ মারা গেলে সমাজের মানুষ কান্না করে। কিন্তু যখন কারো বিবাহবিচ্ছেদ হয়, পুরো ঘটনা জানার আগেই মানুষ ধরে নেয়, এটা নারীর ব্যর্থতা। তারা নারীর দোষ খুঁজতে চেষ্টা করে, তার চারিত্রিক সনদ অব্দি দিয়ে দেয়, এবং আমরা সবাই হাসি!”

 

নিজের কাঁধে দোষ নিয়ে ফারিয়া বলেন, ‘আমি নিজের পছন্দে বিয়ে করেছি, এবং আমিই বিষয়টাকে এতদূর আসতে দিয়েছি। প্রত্যেক পরিবারের মতো আমার পরিবারও প্রাথমিকভাবে আমাকে সমর্থন দেয়নি। কারণ আমার বাবা জীবিত নেই, আমার কোনো ভাই নেই, কিংবা কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। কিন্তু পরে যখন আমার বোন আমার বিষাক্ত অবস্থা দেখে, তখন তারা আমাকে রক্ষা করে।’

 

দুর্বিসহ এই ঘটনা সামনে আনা সহজ ছিল না। সেজন্যই এতোটা সময় লেগেছে বলে জানান ফারিয়া। তার ভাষ্য, “এই ঘটনা সামনে আনা মোটেও সহজ ছিল না। যদি হতো, তাহলে আরও আগেই এটা প্রকাশ্যে আনতাম। আমি দেখেছি, কীভাবে মানুষ পরিস্থিতি উল্টে আমার দিকে আঙুল তুলেছে। ঠিক এই কারণেই আমরা অনেক বেশি পারিবারিক নির্যাতন দেখছি। এই সমাজ পুরুষদেরকে বাহবা দেয়, আর নারীকে লজ্জা দিতে পছন্দ করে। যদি তুমি মরে যাও, মানুষের মন খারাপ হবে। কিন্তু যদি তুমি নিজেকে রক্ষা করতে বিবাহবিচ্ছেদ করো, তাহলে ‘তুমি খারাপ’।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here