নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হ ত্যা মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রাসাদ মজুমদার।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বুয়েট নিজের কার্যালয়ে পরবর্তী মামলা পরিচালনায় বুয়েটের সহায়তা অব্যাহত থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
উপাচার্য বলেন, আবরারের পরিবারের পক্ষ থেকে যেটুকু চাওয়া হয়েছে তা আমরা দিয়েছি। মাসিক সাহায্য করছি। প্রতিমাসে পঁচাত্তর হাজার টাকা দিচ্ছি। ওনারা আর্থিকভাবে সংকটে পড়েছেন। এজন্য আমি ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পাওয়ার পরে জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে প্রতিমাসে ৭৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া আইনি সহায়তা ও আইনজ্ঞের যে ফি এবং স্টুডেন্টদেরকে আনা নেওয়া করা সাক্ষী হিসেবে খরচ, আনুষঙ্গিক সব খরচ, এমনকি ঢাকায় এসে থাকার খরচ সবকিছু আমরা বুয়েট থেকে বহন করেছি। প্রায় ৫৫ লাখ টাকা এ পর্যন্ত গেছে। এর বাইরে প্রতি মাসে যেটা দেওয়া হচ্ছে সেটা ১২ বছর দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ওনি যদি আমাদের কাছে চান এই সাপোর্ট আমরা অবশ্যই দেবো।
তিনি বলেন, আবরারের বাবা-মার প্রতি আমরা সহমর্মিতা দেখিয়েছি। তাদেরকে বুয়েটের পক্ষ থেকে যতদূর সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও করব। আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা করেছি।
এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শুধু এই মামলা পরিচালনা করতে গিয়েই আমাদের প্রায় ৫৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আবরারের পরিবারকে প্রতি মাসে যে ৭৫ হাজার টাকা দেয়া হয় তা এই হিসাবের বাইরে।’
মাসিক অনুদান দেয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দাবি ছিলো আবরার ফাহাদের পরিবারকে যেন এই সহায়তা দেয়া হয়। এরপর আমরা একটি কমিটি গঠন করি। তারাও এটি দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের এই মত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এবং সিন্ডিকেটে অনুমোদন হলে গত ১ জুলাই থেকে তাদেরকে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তবে ট্যাক্সসহ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতি মাসে ৮২ হাজার ৩৩৩ টাকা দিতে হয়। আগামী বারো বছর আবরার ফাহাদের বাবাকে এই সহায়তা দেয়া হবে।
