ক্যামেরা-সাংবাদিক দেখে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন তাঁরা!

নজর২৪ ডেস্ক- যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন তাঁরা। বেসরকারি চ্যানেলের টিভি ক্যামেরা ও সাংবাদিক আসতে দেখে ভোটারদের জন্য নির্ধারিত লাইনে দাঁড়িয়ে যান। একজন একজন করে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে থাকেন। কেন্দ্রের মূল ফটকে দাঁড়ানো এক আনসার সদস্য তাঁদের বললেন, ‘আপনারা ঢুকে ঘোরাফেরা করে চলে আসেন।’

 

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে মাতুয়াইল কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। খবর- প্রথম আলোর

 

কেন্দ্রের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) জিয়াউর ইসলামের কাছে জানতে চাইলাম, ‘আপনারা এদের ঢুকতে দিলেন কেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আপনারা তো আমাদের চেয়ে জ্ঞানী মানুষ।’

 

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একজনের কাছে জানতে চাইলাম, ‘নাম কী? ভোটার কি না?’ তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে হাসলেন।

 

মাতুয়াইল আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ১০১ নম্বর কেন্দ্র। সকাল ১০টার দিকে এখানকার ৫০১ নম্বর কক্ষে ঢুকে দেখা গেল বুথের ভেতরে ভোট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কালো কাপড়ে ঘেরা জায়গায় দুজন ঢুকে ভোট দিচ্ছেন। পাশেই ছিলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন, মো. আনোয়ারুল হক। আরও ছিলেন শ্যামপুর থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) সুখদেব।

 

যাঁরা ভোট দিচ্ছিলেন তাঁদের একজনের গলায় নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের কার্ড ঝোলানো ছিল। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের কাছে জানতে চাই, ‘দুইজন ঢুকে ভোট দিলেন কীভাবে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘না করেছি। কিন্তু আমরা তো অন্য এলাকা থেকে এসেছি। আপনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন।’

 

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসাইন বলেন, এ রকম কোনো কিছু তাঁর চোখে পড়েনি।

 

এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৮৫৯ জন। এখানে সব বুথেই শুধু নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন। আর কোনো দলের এজেন্ট ছিলেন না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোবারক হোসেন বলেন, ধানের শীষের কয়েকজন এজেন্ট এসেছিলেন। তাঁরা মনে হয়, আশপাশে চা-টা খাচ্ছেন।

 

উল্লেখ্য, গত ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে ঢাকা-৫ আসন শূন্য হয়। এই আসনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের মো. কাজী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির সালাহ উদ্দিন আহমেদ, গণফ্রন্টের এইচ এম ইব্রাহিম ভূইঁয়া, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আনছার রহমান শিকদার ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আরিফুর রহমান (সুমন মাস্টার)।

 

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন নৌকার প্রার্থী মনিরুল ইসলাম। পরে ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে আসেন ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মনিরুল ইসলাম। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

ভোট দিয়ে বের হয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিচ্ছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। এ নির্বাচন একটি নজির হয়ে থাকবে।’

 

তবে সালাহউদ্দিন আহমেদের অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে আজ পর্যন্ত কোনো নির্বাচন করতে পারেনি। তাই আজকের নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না বলেই আমি মনে করি। বেশিরভাগ কেন্দ্র থেকে আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এজন্য ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট নেই। কোনো ভোটার যাতে কেন্দ্রে না আসেন এ জন্য আওয়ামী লীগের লোকজন একটা ত্রাস সৃষ্টি করেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কোনো ভূমিকা পালন করছেন না।

 

তিনি আরও বলেন, এটি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন। তারা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন এতে করে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তবুও আমি শেষ পর্যন্ত দেখব এবং শেষ পর্যন্ত থাকব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *