বিনোদন ডেস্ক- আজমেরী হক বাঁধন, যিনি পর্দায় বাঁধন নামে পরিচিত। তিনি একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রী এবং দন্তচিকিৎসক। ২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে, তিনি ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ২০১০ সালে ‘নিঝুম অরনি’ নামে একটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। পাশাপাশি বেশ কিছু টিভি নাটকেও দেখা গেছে তাকে।
সম্প্রতি ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘আন সার্টেন রিগার্ড’ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র রেহানা মরিয়ম নূর-এ তার গভীরভাবে কেন্দ্রীয় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি এই ছবির জন্য ১৪তম এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস (APSA) ‘সেরা অভিনেত্রী’ বিভাগে জিতেছেন। একই ছবির জন্য তিনি নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে হংকং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (এইচকেএএফএফ) পুরস্কারও জিতেছেন।
তবে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনের আজকের যে সফল জীবন তার পেছনেও এমন অনেক গল্প রয়েছে। যে গল্প থেকে সমাজের নারীরা সাহস পাবেন। পাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রাণশক্তি।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বাঁধন বলেন, ১৮ বছর বয়সে আমার পরিবার আমার বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রথম বিয়ে হয়ে যায়। আমি তখন মেডিক্যালে ২য় বর্ষে ছিলাম। আমি মেডিক্যালে ফার্স্ট গার্ল ছিলাম। বিয়ের পরে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। আমি কারোর সাথে কথা বলা, ফ্রেন্ডসদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম না। পরিবার আমার ভাল চাচ্ছে ভেবে আমি সব কিছু মেনে নিই।
বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, বিয়ের পরে ঝামেলা লেগেই থাকত। এমন অবস্থায় পরিবার থেকে আমাকে বাচ্চা নিতে বলে! তাহলে নাকি এসব সমস্যা থাকবে না। তাই মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমি অবচেতনভাবে তা মেনে নিতে পারিনি। প্রচুর ডিপ্রেশনে পরে যাই। কাউকে আমি তা বুঝাতে পারছিলাম না। আমার সব সিদ্ধান্ত আমার কাছের মানুষরাই নিত। আমার কোন কিছুতেই কোন অধিকার ছিল না। সবশেষে আমি মেনে নিতে না পেরে সেপারেশনের সিদ্ধান্ত নেই।
এই অভিনেত্রী বলেন, আমি পুরো একা ছিলাম। সেই সময় আমার পাশে কেউ ছিল না। তারপর লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার আমার জীবনে বিশাল ভূমিকা পালন করে। লাক্সের জন্য আমি আজ আজকে ‘বাঁধন’। দীর্ঘ ২ বছর ৬ মাস পড়াশোনার গ্যাপের পর আমি আবার পড়াশোনা শুরু করি। লাক্সের থেকে যে টাকা আমি পুরস্কার পাই তা দিয়ে আমি আমার পড়াশোনা শেষ করি।
আক্ষেপ করে বাঁধন বলেন, আমার জীবনের কোন সিদ্ধান্ত আমার হাতে ছিল না। পুতুলের মত ছিলাম আমি। একটা সময় আমি সব ডিসক্রিমিনেশন ওভারকাম করি। কিন্তু আমি চাই না আমার সন্তান এমন কোন ডিসক্রিমিনেশনের স্বীকার হোক। আমি চাই আমার মত অনেক মেয়ে যারা ভাবে ‘এটা মেনে নিতে হবে এটা আমার ভাগ্য’ তাদের আমি বলতে চাই ভাগ্য নিজেকে গড়ায় নিতে হয়। চুপচাপ হাত গুটিয়ে ভাগ্যের দোষ দিয়ে লাভ নেই। ভাগ্য গড়াও, ভাগ্য ফেরাও।
