বাবার কাছে বাংলাদেশেই থাকবে সেই দুই শিশু : হাইকোর্টের রায়

নজর২৪, ঢাকা- জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

তবে, তাদের মা নাকানো এরিকো জাপান থেকে এসে বছরে তিনবার ১০ দিন করে দুই সন্তানের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। জাপানি মায়ের আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ার সব খরচ বাবা ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। এছাড়া সেই মাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

 

হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ রোববার (২১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এসব আদেশ দেন।

 

এর আগে, গত ১৪ নভেম্বর জাপানি নাগরিক মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকা সন্তানকে বাংলাদেশে ফেরানো ও বাংলাদেশে বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকা দুই সন্তানকে মায়ের কাছে রাখা সংক্রান্ত রিটের রায়ের তারিখ পিছিয়ে ২১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

 

রায়ে আদালত বলেন, এ রিটটি চলমান থাকবে। দুই মেয়ে পাঁচ নম্বর বিবাদীর (ইমরান শরীফ) হেফাজতে থাকবে। মা দেখা সাক্ষাৎ এবং একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। যেহেতু মা জাপানি নাগরিক এবং সেখানে বসবাস ও কর্মরত সে কারণে তিনি তার সুবিধা মতো সময়ে বাংলাদেশে এসে শিশু সন্তানদের সঙ্গে প্রতিবার কমপক্ষে ১০ দিন সময় কাটাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বছরে তিনবার বাংলাদেশে যাওয়া আসাসহ ১০ দিন অবস্থানের যাবতীয় খরচ পাঁচ নম্বর বিবাদীকে বহন করতে হবে।

 

এর বাইরে যাওয়া আসার খরচ দরখাস্তকারী (মা) বহন করবেন। ছুটির দিনে অন্তত দুইবার শিশুদের সঙ্গে ভিডিও কলে মাকে কথা বলিয়ে দেবেন। গত কয়েকমাসে বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতাযাত খরচ বাবদ আগামী সাত দিনের পাঁচ নম্বর বিবাদী দরখাস্তকারীকে ১০ লাখ টাকা দেবেন।

 

রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে পক্ষগুলো আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবেন। তাকে প্রতি তিন মাস পর পর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।

 

এদিকে, জাপানে থাকা ছোট মেয়ে হেনাকে হাইকোর্টে হাজির করানোর নির্দেশনা চেয়ে বাবা ইমরান শরীফের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *