নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানানের অনলাইন বৈঠক হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) বৈঠকে শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী সম্মতি ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, কর্মী নিয়োগে অনলাইন সিস্টেম চালু, রিক্রুটিং এজেন্টের সম্পৃক্ততা, পরবর্তী জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ সভা আয়োজন এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় ফিরে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয় বলে মন্ত্রণালয় জানায়।
সুষ্ঠু শ্রম অভিবাসনের স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্টের তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে এবং মালয়েশিয়া ওই তালিকা হতে রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচন করবে। রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় ডাটাবেজ থেকে কর্মী সংগ্রহ, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সেবামূল্য প্রদানসহ পুরো প্রক্রিয়া মনিটরিং করা হবে একটি সমন্বিত অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে। কর্মী রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়ায় মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও দুই মন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের রিক্রুটমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিষয়ে শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে সে দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছেন।
পরে মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে “মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার শীঘ্রই উম্মুক্তকরণের বিষয়ে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী তার সম্মতি জানিয়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।”
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, বিএমইটি’র মহাপরিচালক মো. শামসুল আলম, অতিরিক্ত সচিব বশির আহমেদ এবং কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় ৬ লাখের মতো বাংলাদেশি থাকেন। তাদের কাছ থেকে গত অর্থ বছরে ১২৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে। এই বছরের শুরুতে করোনা শুরু হলে প্রবাসে থাকা অনেক শ্রমিকের মতো মালয়েশিয়া থেকেও ফিরে আসেন অনেক বাংলাদেশি।
এখনও তাদের ফেরার কোনো সুরাহা হয়নি। মালয়েশিয়া তার দেশের নাগরিক ছাড়া অন্য কাউকে বাংলাদেশ থেকে নিচ্ছে না।
