নজর২৪ ডেস্ক- বিভিন্ন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া ছাত্র অধিকার পরিষদের আদলে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে অধিকার পরিষদ গঠন করেছেন তারা। এবার তাদের নতুন রাজনৈতিক দলের নাম জানালেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সাংবাদিকেদের মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, আমাদের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের নাম ‘গণ অধিকার পরিষদ’। ইতিমধ্যে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক আমলা, অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে দেশের গুণী ব্যক্তিরা।
তিনি বলেন, এটি মূলত, তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল। তার মানে এই নয় যে, এই দলের সবাই বয়সে তরুণ, বরং বয়স্ক হয়েও একজন তারুণ্যের বলে বলিয়ান হতে পারেন চিন্তায়, কর্মে, উদ্যোমে। এখানে প্রবীণ-নবীণরা মিলে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলবে। নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে তারা কাজ করবেন জানান তিনি।
ছাত্র অধিকার পরিষদের এই নেতা আরো বলেন, আপাতত: দল গঠনের উদ্যোগের নাম ‘গণ অধিকার পরিষদ’। পরে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করা হতে পারে। আবার ‘গণ অধিকার পরিষদ’ নামও চূড়ান্ত হতে পারে। সবাই একমত হলে এ নামেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এবং সেটা খুব শিগগিরই। সারাদেশে এ পরিষদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নুর, রাশেদ ও ফারুককে বাদ দিয়ে সংগঠনের নাম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ রেখে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে সংগঠনটির একাংশের নেতারা।
নতুন এই কমিটিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত যুগ্ম-আহ্বায়ক এপিএম সোহেলকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। নতুন ঘোষিত কমিটিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটা বিদ্রোহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে এই ‘অবাঞ্ছিত’র ঘটনা সরকার করাচ্ছে বলে দাবি করেছেন নুর। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে এ দাবি করে তিনি বলেন, তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার বিষয়টি সরকারই করাচ্ছে।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এটা আসলে সরকারই করাচ্ছে। সরকারি দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এরা আসলে এই কাজগুলো করছে।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গঠিত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর আরও বলেন, “প্রেস ক্লাবে যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা আমাদের সংগঠনের কেউ না। আমরা লাইভে দেখেছি যে ওখানে যারা আছে তাদের একজন ‘চাকরির বয়সসীমা ৩৫’ এর আন্দোলনকারী, ঐক্যবদ্ধ সাধারণ ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক। কয়েকজনকে আমরা চিনিও না। ওখানে এপিএম সুহেল ছাত্র অধিকার পরিষদে ছিল। কিন্তু গত মে মাসে তাকে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকার কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। কাজেই তারা সংগঠনের কেউ না।”
তিনি বলেন, “আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছিলাম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ হিসেবে। সেই আন্দোলনের পরে যেহেতু আমরা একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছি, সেখানে নামটি সংশোধন করে ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ করেছি। এখন আগের নাম নিয়ে কেউ যদি দাবি করে সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় না। তারপরও একজন সংগঠন করতেই পারে। এ নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এটা আসলে সরকারই করাচ্ছে। সরকারি দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এরা আসলে এই কাজগুলো করছে।”
