ঢাকা    ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দেশের বাজারে করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধ, দাম ৭০ টাকা

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২১

দেশের বাজারে করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধ, দাম ৭০ টাকা

নজর২৪ ডেস্ক- করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে অ্যান্টিভাইরাল ওরাল পিল বা মুখে খাওয়ার ওষুধ ‘মলনুপিরাভির’ দেশের বাজার পাওয়া যাচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা এ ওষুধ বাজারে এনেছে, যার জেনেরিক সংস্করণের নাম হবে ‘এমোরিভির’।

 

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেক্সিমকো ফার্মার চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) রাব্বুর রেজা।

 

তিনি বলেন, প্রতিটি ওরাল পিলের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৭০ টাকা। চিকিৎসকের পরামর্শে ১৮ বছরের বেশি বয়সী করোনা আক্রান্ত রোগীকে সংক্রমণ প্রতিরোধে ৪০টি পিল খেতে হবে। যার বাজার মূল্য হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

 

এর আগে গতকাল (৮ নভেম্বর) দেশে মলনুপিরাভির অ্যান্টিভাইরাল ট্যাবলেটের জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, এ ওষুধ করোনাভাইরাসের বংশবিস্তার অকার্যকর করতে সক্ষম। পাশাপাশি, করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সক্ষমতা মলনুপিরাভিরের রয়েছে।

 

ওষুধের প্রাপ্তিস্থান প্রসঙ্গে রাব্বুর রেজা বলেন, রাজধানীর ১৫০টি ফার্মেসিতে গত রাতে (সোমবার) আমরা এ ওষুধ পাঠিয়ে দিয়েছি। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে আজ পাঠানো হবে।

 

তিনি বলেন, করোনা আক্রান্তের পরিসংখ্যান দেখে বিভিন্ন জায়গায় ওষুধ পাঠানো হবে। যে সব এলাকার মানুষ এখন বেশি করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, সেই সব এলাকায় এ ওষুধ পাঠানো হবে।

 

করোনার চিকিৎসায় কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ ছিল না। গত সপ্তাহে একটি নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ‘মলনুপিরাভির’ নামের ওই খাওয়ার ক্যাপসুল দেশে উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

 

করোনা নিরাময়ে যৌথভাবে মলনুপিরাভির তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মার্ক ও রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিক। ওষুধটির ওপর পরীক্ষা হয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ১৭টি দেশে।

 

ওষুধটি ৪ নভেম্বর অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কিংডম মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি অথোরিটি। ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ওষুধটি অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

 

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, বাংলাদেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই ওষুধ তৈরির জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

“আমাদের কাছে বেক্সিমকো, স্কয়ার, এসকেএফ, ইনসেপ্টা, জেনারেল ফার্মা, বিকন ফার্মা, রেনাটাসহ ১০টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। বেক্সিমকোকে ইমার্জেন্সি ইউজ অথরাইজেশন দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজেশন দেওয়া হবে। সেগুলো প্রক্রিয়াধীন।”