বিনোদন ডেস্ক- ‘বাবা জানো, আমাদের একটা ময়না পাখি আছে না, সে আজকে আমার নাম ধরে ডেকেছে, আর এ কথাটা না মা কিছুতেই বিশ্বাস করছে না, আমি কি তাহলে ভুল শুনেছি, কেমন লাগে বলো তো।’ এক মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের এই সংলাপ দিয়েই সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন শিশুশিল্পী দীঘি। সেটা ১৩ বছর আগের কথা।
সেই দীঘি বড় হয়ে গেছেন। পুরোদস্তুর নায়িকা হিসেবে দাঁড়িয়েছেন ক্যামেরার সামনে। ‘তুমি আছো তুমি নেই’ এবং ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ নামের তার দুটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এরই মধ্যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তিনি প্রেমে পড়েছেন। তবে প্রেমের এই গুঞ্জনকে পাত্তা দিচ্ছেন না দীঘি।
গত ২৬ অক্টোবর ছিল দীঘির জন্মদিন। তার কাছে জানতে চাওয়া, কততম জন্মদিনের কেক কাটলেন এবার? ‘ছি ছি, এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া পাপ। এমন প্রশ্ন করা যাবে না’ বলেই এক গাল হাসির শব্দ শোনা গেল।
নায়িকার বয়স জানা না গেলেও জানিয়েছেন, তিনি ২০২০-২১ অর্থবছরে অনুদান পাওয়া ‘শ্রাবণ জোৎস্নায়’ সিনেমার শুটে ব্যস্ত আছেন। তবে জন্মদিনে তিনি কোনও কাজ করেন না। দীঘির ভাষ্যে, ‘এ দিন শুধু আমার রিলাক্স ডে’।
এমন দিনে দীঘির কাছে জানতে চাওয়া, বয়স বেড়ে যাচ্ছে, প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে না? হাসির মাঝে গণমাধ্যমকে জানায়, ‘বয়স বাড়লেও এখনও প্রেমের বয়স হয়নি।’
আরও জানালেন, এই অবধি জন্মদিনে পাওয়া সেরা উপহারের কথা। ‘মা অসুস্থ হওয়ার পর যখন হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসা হয়, তখন একটা জন্মদিনের দিন ঘুম থেকে উঠে মাকে বলেছিলাম, আজ আমার জন্মদিন। মা সেমি প্যারালাইজড ছিল, কিন্তু আমার কথা শুনে আমাকে ইশারা দিয়ে কাছে ডেকে গালে চুমু খেয়েছিল। ওটা আমার জন্মদিনের সেরা উপহার।’
এদিকে দুইটি সিনেমা মুক্তি পেলেও সেগুলো সফল হয়নি। বরং নানা কারণে হয়েছে সমালোচিত। তাই শিশুশিল্পী দীঘি সফল হলেও নায়িকা দীঘি এখনো ব্যর্থ। যদিও নিজেকে এখনই ব্যর্থ মানতে নারাজ এ নায়িকা।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দীঘি জানান, ‘আমি মনে করি সফলতা কিংবা ব্যর্থতার বিষয়টি বিবেচনা করার আগে অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি সিনেমা মুক্তি পাওয়া দরকার। একটা-দুইটা সিনেমা দিয়ে আমি কারো সফলতা বিচার করব না। আমি নায়িকা হয়েছি বেশিদিন হয়নি। সুতরাং এখনই আমাকে ব্যর্থ বলার সুযোগ নেই। আরেকটু সময় দেওয়া হোক, আমি কী পারি, কী পারি না সেটা দেখানোর জন্য। তারপর তারা বলুক আমি সফল না বিফল।’
তিনি বলেন, ছোট বেলায় তিনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার মা অভিনেত্রী দোয়েল যখন অসুস্থ হতেন, তখন দীঘির মনে উঁকি দিত ডাক্তারির স্বপ্ন। ভাবতেন, নিজে ডাক্তার হয়ে মায়ের চিকিৎসা করবেন। তবে মায়ের মৃত্যুর পর সেই স্বপ্নও হারিয়ে যায় দিঘির মন থেকে। এখন তার সব ধ্যানজ্ঞান সিনেমা ঘিরে। নিজেকে সফল নায়িকা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান এ তরুণী।
