বিনোদন ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মদিন আজ রোববার। ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন পরীমনি। প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি বেশ ঘটা করেই দিনটি পালন করবেন।
জানা গেছে, গেল বছর ধুমধামে পরীর জন্মদিন আয়োজন করা হয়েছিলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে। তার আগেরবার হোটেলে সোনারগাঁওয়ে হয় জন্মদিনের আয়োজন। তবে এবার জন্মদিনের আয়োজন হবে রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে।
ইতোমধ্যে আয়োজনের পূর্ব প্রস্তুতি শেষ। প্রিয় মানুষদের কাছে পৌছে গেছে দাওয়াত কার্ড। সব ঠিক থাকলে রেডিসন ব্লুতে সন্ধ্যার পর থেকে বসবে লাল-সাদার আসর। বাহারি আলোয় ভরে উঠবে তার আয়োজন।
তবে সন্ধ্যার পর জাকজমকপূর্ণ আয়োজন থাকলেও দিনের আলোয় অন্যভাবে দিনটি কাটবে পরীর। দুপুরে সময় দিবেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে, তাদের সঙ্গে কাটবেন কেক, বিতরণ করবেন বিভিন্ন উপহারসামগ্রী।
পরীমনির পারিবারিক নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। মডেলিং থেকে ছোট পর্দার পর ঢাকাই সিনেমায় নাম লেখান তিনি। প্রথম সিনেমা মুক্তির আগেই ২৩ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে রীতিমত আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন হালের আলোচিত এই চিত্রনায়িকা।
তবে মিডিয়ায় পরীমনির শুরুটা হয়েছিল ছোটপর্দায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু স্বপ্নটা ছিল বড় পর্দারই। অভিনয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এমন স্বপ্ন ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু চাইলেই তো আর অভিনয় করা যায় না। তাও আবার চলচ্চিত্রের মতো এত বড় একটি মাধ্যমে। সে জন্যই আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, প্রথমে নাটক, তারপর বিজ্ঞাপন, এরপরই চলচ্চিত্র।
সাতক্ষীরায় পরীমনির জন্ম হলেও শৈশবে বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা সুলতানাকে হারানোর পর পিরোজপুরে নানা শামসুল হক গাজীর কাছে পরীমনির বেড়ে উঠা।
ব্যক্তি পরীমনি একজন সহজ-সরল ও কিউট। অভিনয় করেন নিজের ভালো লাগা থেকে। সেই সঙ্গে ভালোবাসেন দর্শকদের। জন্মদিনে পরীমনি কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান।
পরীমনি হালের একজন জনপ্রিয় ব্যস্ত চিত্র নায়িকা। তবে সব ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সেবামূলক কাজের সঙ্গে। এফডিসিতে কোরবানি দিয়ে দরিদ্র ও অস্বচ্ছল সহশিল্পীদের মধ্যে মাংস বিতরণ, অসহায় শিল্পী, কবি, সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সময় দেখা যায় আবেগী পরিকে।
প্রতি বছর পরীমনি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য ড্রেস কোড বাধ্যতামূলক করে দেন। এবারও ড্রেস কোড হিসেবে পুরুষের জন্য সাদা আর নারীদের জন্য লাল রঙ বেছে নিয়েছেন তিনি। সাদা রং সাধারণত শুভ্রতা বোঝায় আর লাল শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ড্রেস কোডে সাদা-লালের এই রংবিন্যাস নির্ধারণের সময় বিষয়গুলো ভাবনায় ছিল কি?
জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘হ্যাঁ, শুভ্রতার সঙ্গে শক্তির মিশ্রণের থিমে এবারের আয়োজনটা করতে চাই। সে কারণেই ড্রেস কোড হিসেবে সাদা-লাল নির্ধারণ করা।’
জন্মদিনে পাঁচ তারকা হোটেলে যে আয়োজন, সেখানে কারা আমন্ত্রিত হতে পারেন তার একটি ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন পরীমনি। স্ট্যাটাসের একদম শেষে লিখেছিলেন, ‘মূলত যারা বিপদের সময় তোমার পাশে থাকেনি! তারা তোমার আনন্দের অংশীদার হওয়ার যোগ্যতাও রাখে না!’
এ থেকে সবাই ধারণা করেছেন যে, পরীমনির সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় যারা পরীর পাশে ছিলেন, আয়োজনে হয়তো তারাই শুধু আমন্ত্রণ পাবেন। ধারণাটি ঠিক বলে জানালেন পরী। বললেন, ‘এবার আয়োজনে অনেক নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা হবে আমার। কারণ নতুন করে অনেক মানুষ আমার পাশে থেকেছে। আমার বিশেষ দিনে তাদের সঙ্গে নিয়ে কাটাতে চাই।’
আমন্ত্রিত অতিথিদের ড্রেস কোড থাকলেও পরী নিজে কোন ধরনের পোশাক পরবেন, তার রংবিন্যাস বা ডিজাইন কেমন হবে, তা পরিষ্কার করে বলেননি পরী। বলেন, ‘কী রং বা নকশার পোশাক পরব তা জানি না। এবার আমি জিমিকে খুব মিস করছি। আগের পোশাকগুলো তো সে-ই ডিজাইন করেছিল।’
এর আগে কিছু সংবাদমাধ্যমে এসেছিল পৃষ্ঠপোষক নিয়ে জন্মদিন উদযাপন করবেন পরী। তবে এই তথ্য উড়িয়ে দিয়ে পরী বলেন, ‘এগুলো বাজে কথা। আমি আমার কাছের মানুষদের আমন্ত্রণ করব, তার জন্য আবার পৃষ্ঠপোষক লাগবে কেন?’
