নজর২৪ ডেস্ক- চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজা মণ্ডপে হামলার চেষ্টার ঘটনায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন যুব অধিকার পরিষদের তিন নেতা ও ছাত্র অধিকার পরিষদের একজনসহ মোট দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রাতভর নগরী ও নগরীর বাইরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন যুব অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. নাছির (২৫), সদস্যসচিব মিজানুর রহমান (৩৭), বায়েজিদ থানা শাখার আহ্বায়ক মো. রাসেল (২৬) ও ইয়ার মোহাম্মদ (১৮), ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মো. ইমন (২১), মো. মিজান (১৮), গিয়াস উদ্দিন, ইয়াসিন আরাফাত (১৯), হাবিবুল্লাহ মিজান (২১), ইমরান হোসেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি গ্রেফতারকৃতরা হামলার পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সাধারণ মুসল্লিদের কাজে লাগিয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এই হামলার ঘটনা। বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, চট্টগ্রামের নেতাদের পরিকল্পনাতেই চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, পূজা মণ্ডপে হামলার আগের দিন যুব অধিকার পরিষদ চকবাজারে একটি গোপন বৈঠক করেছিল। এ বৈঠক থেকে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ওসি বলেন, যুব অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. নাছিরকে (২৫) সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট থেকে, বাকিদের চকবাজার, ষোলোশহর ও বন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতার ১০ জনকে আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক বলেন, মিছিলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা ও তদন্ত করে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মী বলে পরিচয় পাওয়া গেছে। আমাদের কাছে পরিচয় তারা এখন অপরাধী। অপরাধ করেছে বলেই তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার সাথে এবং পিছনে যারা জড়িত আছে সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নেতৃত্ব প্রদানকারী ও পরিকল্পনাকারীকে আমরা পেয়েছি। তবে আমরা কখনোই বলছি না এরাই মূল পরিকল্পনাকারী। তদন্তে আরো কিছু বের হতে পারে। আমরা কিছু টেলিফোনের কথোপকথন পেয়েছি, সেগুলো পর্যালোচনা করছি।
এর আগে, কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে জুমার নামাজের পর একটি মিছিল থেকে ঐতিহাসিক জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপের গেটে হামলা হয়। পরে এ ঘটনায় ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। এসআই আকাশ মাহমুদ ফরিদ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অন্তত ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
