বিনোদন ডেস্ক- দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক তাহসান খানকে গত ১০ মার্চ আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স সাইট ইভ্যালির ‘ফেইস অব ইভ্যালি’ (শুভেচ্ছাদূত) ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ডেলিভারি নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কের কারণে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেন এই তারকা।
তবে ইভ্যালি থেকে সরে দাঁড়িয়েও রেহাই পাচ্ছেন না এই তারকা। বিভিন্ন সময় নানান বিতর্কে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে তাকে।
গত সোমবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন জানান, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা কারও বিরুদ্ধে যদি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেনের এমন মন্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘ইভ্যালি ইস্যুতে তাহসান-ফারিয়াকেও আইনের আওতায় আনা হতে পারে’ এমন শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে তাহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘খ্যাতির জন্য মুখরোচক শিরোনাম আমাদের এক ধরনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিক ভাইদের কলমের ক্ষমতা আছে বলেই কি যা ইচ্ছা লিখবেন! বিষয়টা আমাদের জন্য বেশ বিব্রতকর এবং অপমানজনক।’
তিনি আরও জানান, ‘ইমাম ভাইয়ের (অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন) সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেটি আমাকে জানিয়েছেন। আমাকে এবং আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ নিয়ে বার বার প্রশ্ন করায় তিনি আমাদের বিষয় উত্থাপন করেন।’
আক্ষেপের সুরে এই তারকা জানান, ‘আমি যে হয়রানিমূলক শিরোনামের শিকার হচ্ছি, এটা আমি তাদের বিরুদ্ধে বলতে পারছি না। বড় বড় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তো আমি যুদ্ধে নামতে পারব না। আমার সেই ক্ষমতা নেই।’
এদিকে সেদিনের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেছেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে আমাকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, তাহসান-ফারিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের ধরবেন কি না? এটা তো আমাদের খুব সাধারণ কথা, তদন্তে যদি কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয় কিংবা যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ার আগেই তো কারও বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না। নিরপরাধ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না সিআইডি। নিরপরাধ কেউ যাতে কোনো প্রকার হেনস্তার শিকার না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করছে সিআইডি।’
