হাইকোর্টের আদেশের পরই সুদ কারবারিদের ধরতে মাঠে ডিবি পুলিশ, আটক শুরু

নজর২৪ ডেস্ক- উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবৈধ সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। অ্যাপসভিত্তিক অবৈধ সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী ও অনলাইন প্রতারকচক্রের পাঁচজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

 

বুধবার (০৬ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ কমিশনানর ফারুক হোসেন। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম পরিচয় জানাননি তিনি। আগামীকাল দুপুর ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

 

বিকেলে অনিবন্ধিত বা অনুমোদিত সুদ কারবারি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে লিখিত আদেশ দেয়।

 

এতে অনিবন্ধিত বা অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

তদন্তকালীন সময়ে কোনো অননুমোদিত বা লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক সেগুলো বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়। চড়া সুদে ঋণদানকারী স্থানীয় মহাজনদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকেও নির্দেশ দেয়া হয়।

 

উচ্চ আদালত এই আদেশ দিয়েছে আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের একটি রিট আবেদনের পর। উচ্চ আদালতের আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তিনি বেশ খুশি।

 

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুমন বলেন, ‘এই অর্ডারটা যদি ৫ বা ১০ বছর আগে নিয়ে আসা যেত এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যদি এমন তৎপর হতো, তাহলে যুবক, এহসান গ্রুপ, ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্ম হতো না। জন্ম হলেও এতো বড় হতো না।

 

তিনি বলেন, ‘আদালতের অর্ডারটা যদি ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়, তাহলে অনিবন্ধিত সুদকারবারিদের নিয়ন্ত্রণহীন যন্ত্রণা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে। এ ধরনের কারবার ভবিষ্যতের জন্য থেমে যাবে।’

 

জনগণের কাছ থেকে কারা আমানত সংগ্রহ ও ঋণ দিতে পারবে এবং ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার কত হবে, সেটি আইন দ্বারা নির্দিষ্ট। কিন্তু এর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মানুষকে ঋণ দিয়ে উচ্চ হারে সুদ আদায় করে থাকে।

 

ব্যাংক খাতে ক্রেটিড কার্ড ছাড়া এখন বার্ষিক সর্বোচ্চ সুদ হার ৯ শতাংশের মধ্যে। তবে সুদ কারবারিরা মাসে ১০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি হারে সুদে ঋণ দিয়ে থাকেন।

 

এই ঋণের বিপরীতে জমি বা বাড়িঘরের দলিল বা অন্য মূল্যবান সম্পদ বন্ধক রাখা হয়। টাকা দিতে না পারলে প্রায়ই সেগুলো দখল করে নেয়ার অভিযোগ আসে গণমাধ্যমে। সুদের টাকা দিতে না পেরে আ.ত্মহ.ত্যার ঘটনাও বিরল নয়।

 

এমন একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর ক্ষুদ্রঋণের নামে সুদের ব্যবস্থা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। ‘চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা’ শিরোনামে গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে জনস্বার্থে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন সায়েদুল হক সুমন।

 

রিট আবেদনে সারাদেশের সুদকারবারিদের তালিকা চাওয়া হয়। এছাড়া চড়া সুদে অনানুষ্ঠানিকভাবে মহাজনদের ঋণ দেওয়া রোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা/ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা এবং সারাদেশে চড়াসুদে ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।

 

রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ৬৪ জেলার ডিসি এবং এসপিকে বিবাদী করা হয়।

 

আদেশের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

এ বিষয়ে তদন্তকালে কোনো অননুমোদিত বা লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সেগুলো বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এছাড়া ঋণদানকারী স্থানীয় সুদকারবারিদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *