বিনোদন ডেস্ক- ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি মাদক সেবন করতেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বনানী থানায় গত ৫ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে র্যাবের দায়ের করা মামলার এজাহারে পরীমণির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, সিআইডি তদন্তে সেসব অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৪ অক্টোবর) ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া চার্জশিটে পরীমণি ছাড়াও আশরাফুল ইসলাম দীপু ও কবির হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘র্যাব মাদক মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এজাহারে উল্লেখ করেছে, সেগুলোর প্রমাণ মিলেছে। আমরা পরীর বাসা থেকে উদ্ধারকৃত মাদক পরীক্ষা করেছি, তাতে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। পরীমণি মাদক সেবনের জন্য এগুলো তার কাছে রেখেছিল, আমরা সেই প্রমাণও পেয়েছি।’
চার্জশিটে সিআইডি উল্লেখ করেছে, ‘তার বাসা থেকে উদ্ধারকৃত মাদক আইস, এলএসডি ও মদ সে তার সহযোগী দিপু ও কবির হোসেনের মাধ্যমে সংগ্রহ করতো। তাদেরও তাই এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বলেন, ‘আদালতে তিন জনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।’
সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের কাছে নায়িকা ও মডেলদের পাঁচটি মামলা ছিল। এদের মধ্যে পরীমণির একটি, পিয়াসার ৩টি ও জিমির একটি মামলা। সব মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি।
গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সেখান থেকে তার কথিত মামা আশরাফুল ইসলাম ওরফে দীপুকেও গ্রেপ্তার করা হয়। বাসা থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল, বোতলভর্তি মদ, ইয়াবা, আইস ও এলএসডি জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক মামলা করে র্যাব। একই দিন র্যাব পরীমণির ঘনিষ্ঠজন ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার ও মাদক জব্দ করে। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়।
এর আগে ১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থেকে মডেল মরিয়ম আক্তার মৌ এবং বারিধারা থেকে ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ। এসব মামলার তদন্তের দায়িত্ব পড়ে সিআইডির ওপর।
মাদক মামলায় পরীমণিকে তিন দফায় মোট ৭ দিন রিমান্ডে নেয় সিআইডি। গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে পরী মণির জামিন মঞ্জুর করলে পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হন এ চিত্রনায়িকা।
পরবর্তীতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়িকা পরীমণিকে তার হ্যারিয়ার গাড়ি, দুটি ল্যাপটপ, তিনটি আইফোন, একটি আইপ্যাড, মেমরি কার্ড একটি, পেনড্রাইভ একটি, টেলিটক মডেম একটি, মাই স্টাইক একটি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ভিসাকার্ড একটি, ব্র্যাক ব্যাংকের গোল্ডকার্ড একটি, ব্র্যাক ব্যাংকের ভিসাকার্ড একটি ও দুটি পাসপোর্ট মোট ১৬টি আলামত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
বনানী থানায় পরীমণির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ছিলেন র্যাব-১-এর কর্মকর্তা মজিবর রহমান।
এজাহারে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, বনানীর একটি বাসায় পরীমণি সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুর মাধ্যমে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে বাসায় সংরক্ষণে রেখেছেন। তার শয়নকক্ষের একটি কাঠের ফ্রেমের ভেতর থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। প্রতি বোতল মদের দাম ৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া চার গ্রাম আইস ও একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধার করা হয়। একই মামলায় কবির নামে আরেকজনকেও আসামি করা হয়।
এদিকে পরীমণিকে গ্রেপ্তারের পরদিন উত্তরায় র্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ওই অভিনেত্রীর বাসায় মিনি বার রয়েছে। মদের লাইসেন্স থাকলেও মেয়াদ পেরিয়েছে অনেক আগেই। পরীমণি ও নজরুল রাজসহ এই চক্র ডিজে পার্টির আয়োজনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করতেন। পরীমণির বাসায় নিয়মিত পার্টি হতো। প্রথমে মামলাটির তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।
