বিনোদন ডেস্ক- স্বামী অভিনেতা নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েই গেলো দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সামান্থা আক্কিনেনির। শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক যৌথ বিবৃতিতে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা।
তবে সাত বছর চুটিয়ে প্রেমের পরিণতি যে বিয়ে, তার বিচ্ছেদ মানতে নারাজ অনেকেই। কিউট কাপল হিসেবে দক্ষিণ ভারতে তাদের পরিচিতি রয়েছে। অথচ এই কিউট কাপলদেরই হয়ে গেলো বিচ্ছেদ।
তবে কেনো তাদের বিচ্ছেদ এ নিয়ে সামান্থা ও চৈতন্য দুজনের কেউ সরাসরি কিছু না বললেও ভারতীয় বিভিন্ন মিডিয়ার খবর— বিচ্ছেদের পথেই হাঁটছেন এ দুই দক্ষিণী সুপারস্টার। তাই প্রশ্ন উঠেছে— কেন ভাঙল সামান্থা ও চৈতন্যের সংসার?
জানা গেছে, রুপালি পর্দায় সামান্থা যেভাবে হাজির হন তা মোটেও পছন্দ করছিলেন না স্বামী নাগা চৈতন্য ও তার বাবা নাগার্জুনা আক্কিনেনি। বেশ কিছু স্ক্রিনে সামান্থা খোলামেলা রূপে হাজির হয়েছেন বলে অভিযোগ চেতন্য পরিবারের। ‘ফ্যামেলিম্যান-টু’ ওয়েব সিরিজে খোলামেলা ও সাহসী চরিত্রে অভিনয় করেছেন সামান্থা, যা আক্কিনেনি পরিবার একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি।
তবে বিষয়টি মানতে নারাজ সামান্থা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার বাকবিতণ্ডা হয়েছে স্বামী চৈতন্যের সঙ্গে। অবধারিতভাবেই দুজনের সম্পর্কে বড় রকমের ফাটল ধরেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে এ দুই তারকার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র এমনটিই জানিয়েছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণী এই ডিভার বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন ছিল। সপ্তাহখানেক আগে তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটি সূত্র বলিউড হাঙ্গামাকে জানিয়েছিল, এই দম্পতির মধ্যে দুই পরিবারের সমঝোতার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নাগা চৈতন্য বাবা-মায়ের সাথে থাকার জন্য সামান্থার সঙ্গে যে বাড়িতে থাকতেন, সেখান থেকে বেরিয়ে গেছেন।
২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর দীর্ঘদিন প্রেমের পর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নাগা চৈতন্য ও সামান্থা আক্কিনেনি।
তেলেগু ভাষার দ্বিতীয় পঠিত দৈনিক সাক্ষী পোস্টের খবর, কিছুদিন আগে নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে আক্কিনেনি পদবি মুছে ফেলেন সামান্থা। এর পর থেকে সামান্থা ও তার স্বামী নাগা চৈতন্যের বিচ্ছেদের গুঞ্জন গাঢ় হয়।
সম্প্রতি সামান্থা আক্কিনেনি অভিনীত ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় মৌসুমের ব্যাপক সাফল্য পায়। পত্রপত্রিকার খবর, সামান্থার হাতে রয়েছে দুটি তামিল সিনেমা। একটি বিজয় সেতুপতির সঙ্গে ‘কথু ভাকুলা রেন্দু কাধাল’, অপরটি ‘শকুন্তলম’, যেখানে পৌরাণিক চরিত্র শকুন্তলার ভূমিকায় দেখা যাবে সামান্থাকে।
দক্ষিণী মেগাস্টার নাগার্জুনার পুত্র নাগা চৈতন্য। ২০০৯ সালে ‘জোশ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে তিনি সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন। অন্যদিকে সামান্থার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১০ সালের ‘ইয়ে মায়া চেসাভ’ সিনেমা দিয়ে। যেখানে তার নায়ক ছিলেন চৈতন্য। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাদের মধ্যে ভালোলাগা ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। সাত বছর প্রেম করার পর বিয়ে করেছিলেন তারা।
