চাঁদপুরে এসে আনন্দবাজার পত্রিকার উপর ক্ষোভ ঝারলেন রজতাভ

বিনোদন ডেস্ক- কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা রজতাভ দত্ত। বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করতে এ মুহূর্তে ইলিশেবাড়ি চাঁদপুরে আছেন। শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত ‘প্রিয়া রে’ শিরোনামে একটি সিনেমার শুটিংয়ে জন্য বেশ কিছুদিন চাঁদপুরে থাকবেন তিনি।

 

কলকাতার তুখোড় এই খল অভিনেতাকে সামনে পেয়ে তাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন চাঁদপুরের একঝাঁক সাংবাদিক। সেখানে সম্প্রতি কলকাতার বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার একটি রিপোর্ট প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় তাকে। তাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেন, জয়া আহসান, মিথিলা, বাঁধনদের মতো বাংলাদেশি তারকাদের কারণে কলকাতার নায়িকারা বেকার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আনন্দবাজার পত্রিকায় এমন খবর প্রকাশ হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে রজতাভ বলেন, এসব বোগাস কথাবার্তা। এ ধরনের রিপোর্টেরই কোনো ভিত্তি নেই। দেখুন, আনন্দবাজার তো কতো কিছুই বলে, তাতে কি যায় আসে। ওরা তো বাংলা সিনেমা নিয়ে কখন ভালো কথা বলে না। সবসময় বলিউড, হলিউড নিয়ে মেতে থাকে। কে কোথায় গোসল করলো, কার কি হলো না হলো। বাংলা সিনেমা নিয়ে সব উল্টা-পাল্টা সংবাদ। তাদের রিপোর্ট নিয়ে আমি কথা বলতে নারাজ।

 

তবে কি কলকাতার অভিনেত্রীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন? সেখানে বাংলাদেশি অভিনেত্রীদের অভিনয়ে তাদের ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব পড়ছে না!

 

রজতাভ বলেন, যে যোগ্য তার কাজ কেউ কেড়ে নিতে পারে না। যারা মেধাবী তারা সবসময় সব জায়গায় কাজ কারবে, এগিয়ে থাকবে। জয়া আহসান দুর্দান্ত একজন শিল্পী। তার কাজ নিয়ে বলার কিছু নেই। দর্শক তাকে চাইছে। সে জন্যই পরিচালকরা তাকে নিচ্ছেন। যতোদিন চাইবে নেবেন। মিথিলা ভালো করছে। বাঁধন গেলো সম্প্রতি। আর চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম দারুণ জনপ্রিয় কলকাতায়। ওদের সিরিজগুলো খুব ভালো চলেছে। দর্শক পছন্দ করেছেন। ভবিষ্যতেও কাজ করবেন। একইভাবে আমাদের অনেকে এখানে জনপ্রিয়। আর এটা তো নতুন কিছু নয়। অনেক আগে থেকেই দুই বাংলার শিল্পীরা এপার ওপার করে কাজ করেছেন। কারণ বাংলা ভাষা আমার কথা বলি। আমাদের সাংস্কৃতিক আচারও প্রায় এক। এই যে আমরা আসলাম এখানে বা জয়ারা ওপারে যাওয়াতে দুই দেশের শিল্পীদের চাপ বাড়ছে? বেকারত্ব বাড়ছে? এগুলো বলার কোনো যুক্তি নেই। আমি মনে করি না।

 

বাংলাদেশের মতো কলকাতার সিনেমার বাজারও টালমাটাল। তবে ভিন্ন ধারার সিনেমার ক্ষেত্রে কলকাতায় বলা চলে বসন্ত চলছে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রজতাভ দত্ত বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচি বদলেছে। ভাবনা বদলেছে। চাহিদাও বদলেছে। লোকে এখন আর নায়ক-নায়িকার প্রেম, হিরো ভিলেনকে মেরে ফাটিয়ে দিচ্ছে- এসব দেখতে চায় না। তারা এখন সব গল্প ও চরিত্রে নিজেকে, নিজের প্রিয়-চেনাজানা মানুষদের রিলেট করতে চায়।

 

যারা সে ধরনের ছবি বানাতে পারছেন তারাই এখন সফল হচ্ছেন। এখন সিনেমাটা চলে গেছে উরবান মানে শহুরে দর্শক অথবা সেই মেজাজের দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে। তারা নিজেদের গল্প দেখতে চান। জীবনের বাস্তবতা খুঁজে ফেরেন। এজন্য ভিন্ন ধারার শহুরে আমেজের সিনেমাগুলো ভালো চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *