বাইকে আগুন: সহায়তার আশ্বাস দিলেও শওকতের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি কেউ!

নজর২৪ ডেস্ক- বারবার ট্রাফিক পুলিশের মামলার শিকার হয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়ে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের চালক শওকত আলী সোহেল নিজের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দিলে অনেকেই তাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

 

সোমবার মোটরসাইকেল পোড়ানোর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার ঘোষণাও দেন অনেকে। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কেউই সহায়তার হাত বাড়াননি, যোগাযোগও করেননি শওকত আলমের সঙ্গে। রাগ, ক্ষোভ আর প্রতিবাদে এই চালক নিজের আয়ের শেষ সম্বলটুকু ধ্বংস করে দিলেও এখন তিনিও জানেন না, তার সংসার চলবে কী করে?

 

শওকত আলী একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, তিনি রাগের মাথায় একটা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন। রাস্তায় নামলেই পুলিশ নানা অজুহাতে মামলা দেয়, নিজের গাঁটের টাকায় জ্বালানি কিনে দিনভর গাড়ি চালিয়ে ৩০ শতাংশ টাকা দিয়ে দিতে হয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিকে। এর ওপর ট্রাফিক পুলিশের মামলার টাকা দিতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যায়। এজন্যই তিনি প্রতিবাদে নিজের মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেন।

 

তিনি বলেন, তখন অনেকেই বলেছিলেন মোটরসাইকেল কিনে দেবেন। সোমবার কেউ কেউ যোগাযোগও করেছিলেন সহায়তার জন্য; কিন্তু কারও কোনো সহায়তা পাননি। কেউ আর যোগাযোগও করেনি।

 

সোমবার সকালে রাজধানীল বাড্ডা লিংক রোডে শওকতের মোটরসাইকেলটি আটক করেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। ওই সময়ে তিনি মামলা না দেওয়ার জন্য অনুনয় করেন। পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিজেই নিজের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন।

 

ট্রাফিক পুলিশের বাড্ডা ট্রাফিক জোনের সহকারী কমিশনার সুবীর রঞ্জন দাস বলেন, ওই চালক যেটা করেছেন, সেটা অন্যায়। তবুও মানবিক কারণেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর ওইদিন তার বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হয়নি। শুধু রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকায় তার কাগজপত্র যাচাই করতে নেওয়া হয়েছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দিয়ে দেন।

 

তিনি বলেন, ‘উনি ভেবেছিলেন মামলা হবে। মামলা হওয়ার আগেই আগুন দেন। উনি হতাশায় ছিলেন। যা থেকে উনি এমনটা করেছেন।’

 

বাড্ডা থানা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর কেরানীগঞ্জে শওকত আলীর স্যানিটারির দোকান ছিলো। করোনার কারণে দেড় বছর ধরে বন্ধ সেটা। সম্প্রতি তিনি মোটরসাইকেল কিনে দু-তিন মাস ধরে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে যাত্রী আনা নেওয়া করতেন। তবে তিনি এই পেশায় বিরক্তও ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *