আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠকে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উভয়পক্ষ সম্মিলিতভাবে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়।

 

এর আগে শিক্ষার্থীরা সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় বিসিকে অবস্থিত মহিলা ডিগ্রী কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তারা রাত ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন এর পদত্যাগ দাবি ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

 

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে তারা আবারও বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে দুপুর ১২টায় শাহজাদপুর পৌর শহরের ভিসিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী ও সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান র‌ওশন আলম।

 

তারা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে বৈঠকে প্রস্তাব দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসতে রাজি হন।

 

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিক্ষার বিষয় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন রোববার ১৬ জন ছাত্রের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন এবং তাদের লাঞ্ছিত করেন।

 

পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন সেই ১৬ ছাত্রকে ডেকে নিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। চুল কাটার বিষয়, সহকারি প্রক্টর দ্বারা হুমকি ও লাঞ্ছিত হওয়ার পর হতাশাগ্রস্থ্য হয়ে নাজমুল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ঘুমের ঔষধ খেয়ে আ.ত্মহ.ত্যার চেষ্টা করেন। পরে সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

শামীম আহমেদ নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক সহপাঠি ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের দ্বারা নি.র্যাতিত হয়ে আ.ত্মহ.ত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে সে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্চা লড়ছেন। তাই আমরা সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছি।

 

এই বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষক রওশন ইসলাম বলেন, ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে যদি কোন ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে হবে। নির্যানের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত করে দোষী হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

 

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাধানের আশাবাদী। তাদের সাথে আলোচনা করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *