বিনোদন ডেস্ক- আমি আগের ঠিকানায় আছি/ সময় করে এসো একদিন…। প্রিয় কারও ঠিকানা বদলের প্রসঙ্গ এলে ৯০ দশকে মুরাদের গাওয়া এই গানটি মগজে বাজবে অনেকের। যেমনটা বেজেছিল পরীমণি ভক্তদের মনে- পুরনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় ওঠার খবরে!
যদিও পরীমণির ক্ষেত্রে বিষয়টি পুরোই বিপরীত! তিনি মোটেই বলতে চান না, ‘আমি আগের ঠিকানায় আছি।’ থাকলেও আহ্বান করতে চান না, ‘সময় করে এসো একদিন!’ কারণ, তার বাসার ভেতরে-বাইরে র্যাব, পুলিশ, সাংবাদিক, ভক্ত আর শত্রুদের আনাগোনায় অস্থির হয়েছিলেন গেলো ক’মাস।
জেল থেকে ফিরেই বলেছেন, ‘আমার বাসাটি ১৭ কোটি বাংলাদেশি চেনেন। সম্ভবত বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোও চেনে। অথচ হিসাব করে দেখেন, আপনার বাসা (এই প্রতিবেদক) আপনার কলিগদের অধিকাংশই চেনেন না! আমি তো দূরের কথা। তাহলে একটু অনুভব করুন, আমি এই বাসাটিতে কতটা নিরাপদে বা স্বস্তিতে আছি। আমার জন্য বিল্ডিংয়ের অন্যদেরও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে ব্যাহত হচ্ছে।’
মূলত এমন পরিস্থিতি এড়াতে জেল থেকে বেরিয়েই (১ সেপ্টেম্বর) প্রথম স্টেটমেন্ট দেন বনানীর বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার। এর জন্য সময়ও নিয়েছেন দুই-তিন মাস। তবে এতটা সময় নেননি! তার ‘বাসা বদলের’ খবর এলো মাস না ফুরাতেই, ২০ সেপ্টেম্বর। দেশের বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, নতুন ফ্ল্যাটে উঠেছেন পরীমণি।
সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ‘নতুন’ ইন্টেরিয়রে বেশ কিছু ছবি পরী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন এদিন। সেখানে লাল জামার সঙ্গে মিলিয়ে লাল জুতায় নিজ ঘরে দেখা যায় এ নায়িকাকে। ঝুটিবাঁধা চুলে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখায় তাকে। মূলত, এমন ছবির একটাই বার্তা বহন করে, বাসা বদল করেছেন পরী। মূলত সেই সূত্রেই খবরটি হয়
কিন্তু পরীমণির নতুন বাসাটি আসলে কোথায়? জবাবে পরীর চতুর জবাব, ‘ঢাকাতেই আছি।’ আবারও সেই একই গানের প্রতিধ্বনি শোনালো, ‘আমি আগের ঠিকানায় আছি…’। অথচ অনেকেই উৎসাহী, পরীমণি নতুন বাসা নিলেন কোন এলাকায়!
অবশ্য বাসা পাল্টালে তো ঠিকানা লুকানোরই কথা। তাই তার কাছ থেকে এমন চতুর জবাব আসবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে তার ‘নতুন বাসা’র একটা ঠিকানা পাওয়া গেলো বটে! নিশ্চিত হওয়া গেলো, পরী রাজধানীর বনানীতেই আছেন। তবে ঠিকানার বিষয়টি অস্পষ্ট।
তথ্য-প্রমাণ ঘাঁটলে মিলে যায় আরও কিছু সন্দেহ। এমনকি বাসার ঠিকানাটাও। লাল জুতো-জামা পরে আনন্দমুখে প্রকাশ করা সেই ‘নতুন বাসা’র আসবাবই তার বড় প্রমাণ। এমনকি পর্দার আড়ালের সাদা খোপ-খোপ জানালাটাও স্পষ্ট। যে দৃশ্যগুলো পাওয়া গেছে পরীমণির পুরনো অনেক ছবি আর ভিডিওতেও!
যেমন গত জুলাই মাসের ৭ তারিখে পরী তার প্রিয় পোষ্যকে কোলে নিয়ে ওই সবুজ সোফাটিতে ঘুমিয়ে ছিলেন। নতুন বাসার ছবিতেও স্পষ্ট দেখা গেছে সেই সোফাটি। হতেই পারে, নতুন ফ্ল্যাটে পুরনো প্রিয় সোফাটি নিয়ে গেছেন পরী।
কিন্তু এক বছর পেছনের একটি ভিডিওতে গেলে খটকা লাগবে আরও। ২০২০ সালের ২ মে সেই ভিডিওটি নিজে তৈরি করে পোস্ট করেছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা হিসেবে। যে ভিডিওতে পরী নিজের ঘরের সাদা খোপ-খোপ জানালার ফ্রেম গলে ক্যামেরার চোখে তুলে এনেছেন কৃষ্ণচূড়া ফুল। নিয়েছেন অন্দরের সোফা, গিটার আর পোষা পাখি সিমির ছবিও।
যদিও ‘নতুন’ বাসার পর্দা, জানালা, সোফা, গিটার- একই অবস্থানে থাকলেও ‘নতুন বাসা’র ছবিটিতে নেই পাখিটি। তা-ই নয়, পুরনো অনেক ছবি ও ভিডিওতে পরীমণিকে পাওয়া গেলো ‘নতুন বাসা’র ইন্টেরিয়রে!
বিষয়টি কেমন গোলমেলে! স্পষ্ট হতে চাইলে পরী বললেন, ‘দেখুন, আমি আর আমার বাসা নিয়ে কোনও গোলমাল চাই না। আমি যেখানে আছি নিরিবিলি ও নিরাপদে থাকতে চাই। সামনেই নতুন চ্যালেঞ্জ ওস্তাদের (গিয়াস উদ্দিন সেলিম) নতুন ছবির রাবেয়া চরিত্রটি নিয়ে। আমি আপাতত রাবেয়াতে ডুবে আছি। এবং এটাও বলে রাখি, নতুন বা পুরনো বাসা নিয়ে আমি কিন্তু রিসেন্টলি কোথাও কোনও স্টেটমেন্ট দিইনি। সো এ বিষয়ে আমাকে জ্বালাবেন না।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পরীমনি তার বাসা পরিবর্তন করেছেন। অর্থাৎ নতুন ফ্ল্যাটে উঠেছেন অভিনেত্রী। ২০ সেপ্টেম্বর চারটি ছবি পোস্ট করে সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন পরীমনি।
২০ সেপ্টেম্বর সকালে অভিনেত্রী ছবিগুলো পোস্ট করেন ‘মাই সুইট হোম’ নামের অ্যালবামে। ছবিতে ঘরের যে যে অংশ দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সুন্দর করে গোছানো। পরীমনিকেও বেশ উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল সেই ছবিগুলোতে।
চারটি ছবি পোস্ট করে পরীমনি সেই ক্যাপশনে লেখেন, ‘যে জীবন যাপন করছ তাকে ভালোবাসো। যে জীবন ভালোবাসো সেই জীবন কাটাও।’
ইংরেজিতে লেখা, ‘love the life you live. live the life you love’। এই লাইনটি মূলত খ্যাতিমান জ্যামাইকান সংগীতশিল্পী বব মার্লের। পরীমনি অবশ্য ববের নাম উল্লেখ করেননি।
পরীমনি শিগগিরই লাইট-ক্যামেরার দুনিয়ায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গুনিন ওয়েব সিনেমার মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি। ১০ অক্টোবর থেকে শুটিং। এতে রাবেয়া চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।
অক্টোবরে বায়োপিক নামে একটি সিনেমার দৃশ্যধারণের কথা আছে। অভিনয় করবেন প্রীতিলতা নামের সিনেমাতেও। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলো কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাবে পরীমনিকে।
