নতুন স্বামীর কাছে গানের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা পাচ্ছি: ইভা আরমান

বিনোদন ডেস্ক- গত ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের সাবেক স্ত্রী কণ্ঠশিল্পী ও সংবাদ পাঠিকা ইভা রহমান। তার নতুন স্বামীর নাম সোহেল আরমান। এই বিয়ের পর নিজের পুরনো পদবিও মুছে ফেলেছেন ইভা। এখন থেকে নিজেকে ইভা আরমান বলেই দাবি করছেন তিনি।

 

এর আগে চলতি বছরের ৪ জুন ড. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে ডিভোর্স পেপার সাবমিট করেন ইভা। চলতি মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের ডিভোর্স প্রক্রিয়া শেষ হয়।

 

দীর্ঘ ৯ বছর সন্তানকে নিয়ে নিঃসঙ্গ দিন কাটানোর পর, সন্তান ও নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইভা। মাহফুজের অবহেলা তাকে বিচ্ছেদের পথে ঠেলেছে বলেও মন্তব্য করেন এই গায়িকা।

 

মাহফুজুর রহমানকে বিয়ে করে শুধু শূন্যতা পেয়েছেন জানিয়ে ইভা বলেন, নতুন স্বামীর কাছে গানের ব্যাপারে অনেক অনুপ্রেরণা পাচ্ছি। আগামীতে আরো সাবলীল গান করার আশা প্রকাশ করে ইভা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনেকে ট্রল করে আমাকে গানের পাখি বলেছেন। ট্রলের শিকার হওয়ায় হতাশাও প্রকাশ করেন এই সংগীত শিল্পী। এসময় সমালোচকদের গঠনমূলক ট্রল করার আহ্বান জানান ইভা আরমান।

 

মাহফুজুর রহমানের সাথে সম্পর্ক ভাঙ্গার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে জানে কি না- তা আমি জানি না। ২০০৩ সালে মাহফুজুর রহমানের সাথে আমার বিয়ে হয়। ২০০৬ সালে আমাদের ছেলে মারুফের জন্ম হয়। ও এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। ২০১২ থেকে আমরা আলাদা থাকা শুরু করি। আমি আর আমার ছেলে গুলশানের বাসায় থাকতাম। আর উনি (মাহফুজুর রহমান) বনানীর বাসায় থাকতেন। সবশেষ ৯ বছর ধরে আমরা আলাদা থাকছিলাম।

 

এক সময় আমার মনে হল-এভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় কোনো সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে না। ৯ বছরে আমি সম্পর্কটা ঠিক করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওই দিক থেকে কোনো সাড়া পাইনি। এক সময় মনে হয়েছে, আমার একটা সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। চলতি বছরের ৪ জুন ডিভোর্সের পেপার সাবমিট করি। ১৭ সেপ্টেম্বর ডিভোর্সের সার্টিফিকেট হাতে পাই। ১৯ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করি।

 

ইভার নতুন স্বামীর সাথে পরিচয় প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী ইভা বলেন, পরিচয়টা হয়েছে খুবই সিম্পলি। একটা মানুষের সাথে আরেকটা মানুষের যেভাবে পরিচয় হয় সেভাবেই। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই কিংবা সে আমাকে অনেকদিন ধরে চেনে-ব্যাপারটা ওই রকম কিছু না। এক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। শুরুতে ওই রকম খুব বেশি কথা হত-তা না, পরে একটা সময় ফোনে একটু বেশিই কথা হত। সে আমার সম্বন্ধে জানতে চাইত। আমি আমার লাইফ সম্বন্ধে বলেছি। তার লাইফ সম্বন্ধে শুনেছি। তখন মনে হয়েছে, আমাদের মন-মানসিকতা প্রায় একই রকম; আমরা একসাথে ভালো থাকব।

 

তার চেয়ে বড় কথা হল- আমার ছেলে মারুফকে ও অনেক ভালোবাসে, ছেলেও ওকে অনেক ভালোবাসে। দু’জনের মধ্যে বন্ডিংটা সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল। আমি সবসময় সেকেন্ড কিছু ভাবতে ভয় পেতাম। কিন্তু আমি যখনই ফিল করলাম, মারুফের প্রতি ওর আলাদা সখ্যতা আছে তখন ভয় কেটে গেছে। ফেইসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলোতে দেখবেন আমার ছেলেও পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে আছে। ছবিগুলোও আমার ছেলেই তুলেছে। তার আগে আমি আরেকটা বিষয় কথা বলতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *