নজর২৪ ডেস্ক- বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে রিমান্ডে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার রাতে রাসেল ও শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রাসেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অসুস্থ হয়ে যান। এ কারণে ওই রাতে আর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
তবে, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই দুজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মূলত আমরা দুটি বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। একটি হলো-যে গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করেছেন, সে বিষয়ে। পাশাপাশি, গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায়, কী অবস্থায় আছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এসব বিষয়ে রিমান্ডের প্রথম দিনে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তারা মুখ খুলতেও শুরু করেছেন। তাদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
শনিবার সকাল থেকে রাসেল ও তার স্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারা দুজনেই স্বাভাবিকভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানের শুরু, বিভিন্ন অফার, কোম্পানির দায়-দেনা এবং সেসব দেনা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা বলেছেন।’
ইভ্যালির পুরো নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা। এ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে আছেন তাদের নিকট স্বজনরা। তারাই এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারবেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট ইভ্যালির কার্যক্রম নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।
ওই বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এতদিন ইভ্যালির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত করায় আমরা তদন্ত করিনি। তবে আমরা ইভ্যালির অর্থ পাচারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। অর্থ পাচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে। এখনও পর্যন্ত ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’
ওই ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রাসেল ও ইভ্যালির ব্যাংক একাউন্টগুলো বেশ কিছু সময় জব্দ করা হয়েছিল। এই সুযোগে তিনি হুন্ডি করে টাকা পাচার করেছেন কি না সে-বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সুমন ও আব্দুল মান্নান নামে মতিঝিলের দুজন ডলার ব্যবসায়ীর সঙ্গে রাসেলের যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে। তাদের মাধ্যমে রাসেলের টাকা হুন্ডির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না এ বিষয়ে ওই দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
উল্লেখ্য, আরিফ বাকের নামে এক ব্যক্তি ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা করেন। পণ্যের জন্য আগাম অর্থ দিয়ে তা না পাওয়ার পাশাপাশি ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ করা হয় মামলায়।
মামলার বাদী আরিফ বাকের তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ইভ্যালির বিজ্ঞাপন দেখে প্রভাবিত হয়ে তিনি ৩ লাখ ১০ হাজার টাকার পণ্যের অর্ডার দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে তাকে কোনো পণ্য সরবরাহ করা হয়নি।
ওই মামলা হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে র্যাব। রাতে র্যাব সদরদফতরে রেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরদিন হস্তান্তর করা হয় গুলশান থানায়।
