নজর২৪, ঢাকা- ৩৮ লাখ টাকার পর্দা কোথায় কেনা হয়েছে, তা জানেন না বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট বিলের ওপর বিরোধীদলীয় সাংসদদের জনমত যাচাইয়ের আলোচনার পর বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাহিদ মালেক বলেন, বিএনপির হারুন সাহেব বলেছেন, ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে পর্দা কেনা হয়েছে। কিন্তু এটি কোথায় হয়েছে, আমার জানা নেই। এটি কেনা হয়নি। ভুল তথ্য দিলে জনগণ ভুল বুঝে। এটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০ হাজার ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব ব্যবহার হলে একটা সময় পর নষ্ট হয়ে যায়। এক সময় এগুলো ঠিক করতে হয়। যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। তা আমরা করে যাচ্ছি।
বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা টিকার কথা বলেছেন তিন হাজার টাকা। আপনাকে তো আগে জানতে হবে, তারপর বলতে হবে। অর্ধেক নয়, আপনাকে পুরো বিষয় নিয়েই বলতে হবে। যখন টিকা দেওয়া হয়, তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়। এটার সঙ্গে জনবল, সংরক্ষণাগার জড়িত রয়েছে। এখানে শুধু টিকার দাম তিন হাজার টাকা না।
সব সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে নেন দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমি সমালোচনা পছন্দ করি। কারণ এটা আমাকে শক্তিশালী করে। তবে এ সমালোচনা অবশ্যই সঠিক হতে হবে। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ আপনারা বুঝতে পারেন না।
এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, বিএনপির সময় কি কোনো হাসপাতালে ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে পর্দা কেনা হয়েছিল? গত দশ বছরে যে হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যবস্থা আছে?
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ১৩ বছর আপনারা ক্ষমতায় আছেন। দেশের গণতন্ত্রের সূচক কোথায় আছে? প্রতিদিন গণমাধ্যমে এমন কোনো বিভাগ নেই যেখানে দুর্নীতির খবর প্রকাশ হচ্ছে না। এগুলো পড়েন। গত ১২ বছরে ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তি এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে এই বিষয়গুলো অহেতুক দোষারোপ না করে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। গণতন্ত্রের যে সঙ্কট চলছে, গণতন্ত্রের যে সঙ্কট দাঁড়িয়ে গেছে; এই সঙ্কট থেকে আমরা কীভাবে বেরিয়ে আসবো, মানুষের ভোটাধিকার আমরা কীভাবে নিশ্চিত করবো- আসুন এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করি।
