আর সময় নয়, ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

নজর২৪, ঢাকা- দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে ই-কমার্স বিষয়ক জাতীয় কমিটি।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান ডিজিটাল ই-কমার্সের প্রধান মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান।

 

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইভ্যালি ইস্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আর সময় নিতে চায় না। এ বিষয়ে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হবে।

 

সর্বসম্মত পর্যালোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

 

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মো. হাফিজুর রহমান। এ ছাড়া, বৈঠকে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, আরজেএসসি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ই-ক্যাব প্রতিনিধিসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত ব্যবসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম।

 

এর আগে ইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানতে আলাদা নিরীক্ষা করার সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই চিঠিতে ইভ্যালি ছাড়াও অন্য ৯ প্রতিষ্ঠান হলো ধামাকা, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদীনের প্রদীপ, কিউকম, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট, নিউ ডটকম ডটবিডি ও আলেশা মার্ট।

 

এসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র জানাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে সম্প্রতি চিঠি দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক তার জবাবে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগের সুপারিশ জানায়।

 

হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালির টাকা কোথায় গেছে তা জানা যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও তদন্ত করছে। টাকার যোগান নিশ্চিত না হলে, সহসাই গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়া সহজ হবে না।

 

এছাড়াও তিনি বলেন, এই দশ ই-কমার্সের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য গ্রহণ করে তাদেরকে ওইসব পণ্যের মূল্য পরিশোধ না করারও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা, ক্রেতা ও মার্চেন্টদের নিকট মোট দায়ের পরিমাণ এবং কোম্পানির নিকট স্থায়ী ও চলতি মূলধনের পরিমাণসহ কোনো অর্থ অন্যত্র সরিয়ে থাকলে তারও তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেয়া হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *