এ মাসেই নতুন দল ঘোষণা দিবেন নুরুল হক, দলীয় প্রধান হতে রাজি নন জাফরুল্লাহ

নজর২৪ ডেস্ক- ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক চলতি মাসেই নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে আসছেন। তবে দলের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য নাম ‘গণ অধিকার পরিষদ’ অথবা ‘বাংলাদেশ অধিকার পার্টি’। দলটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নতুন দলের সংগঠকদের লক্ষ্য ছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দলীয় প্রধান করা। কিন্তু তিনি নতুন দলের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছুক হলেও দলীয় প্রধান হতে রাজি হননি। সংগঠকেরা এখন চাইছেন ওই পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের কাউকে দলের সভাপতি বা চেয়ারম্যান করতে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একাধিকজনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

 

জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমার সেই বয়স নেই একটি দলের যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার। একটি দল করতে হলে সারা দেশে ছোটাছুটি করতে হবে, যার প্রতিপক্ষ হলো একটি ফ্যাসিস্ট সরকার।’

 

নুরুল হকের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, নতুন দলের সভাপতি বা চেয়ারম্যান হিসেবে যিনিই থাকুন না কেন, নুরুল হক দলের মুখ্য ব্যক্তি হিসেবে থাকবেন। তাঁর চিন্তা ও পরিকল্পনাকে প্রাধান্য দিয়ে সব শ্রেণি–পেশার মানুষকে একত্র করে একটি তারুণ্যনির্ভর দল গড়ার প্রস্তুতি চলছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন রাজনীতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনকেও টানার চেষ্টা চলছে।

 

একসময় রাজনীতি করতেন, এখন নানা কারণে নিষ্ক্রিয়—এমন ব্যক্তিদের সঙ্গেও নতুন দলের উদ্যোক্তাদের আলোচনা চলছে। নতুন দলে রাষ্ট্রচিন্তা, ভাসানী অনুসারী পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন একীভূত হতে পারে বলেও জানা গেছে।

 

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁরা সমমনা চারটি সংগঠন একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল গঠনে একমত হয়েছেন।

 

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন দলের মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলোতে সভাপতি পদে জ্যেষ্ঠদের এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তরুণদের দিয়ে দল সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দল ঘোষণার পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই সারা দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করা হবে।

 

নতুন দলের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা নুরুল হক বলেন, ‘আমরা এককভাবে নির্বাচন করার কথা ভাবছি, যাতে মানুষ আমাদের বিকল্প শক্তি হিসেবে ভাবে। আর নতুন দল ঘোষণার পর আমাদের প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন।’ তাঁর মতে, এ বিষয়ে বড় চাপ তৈরি করা না গেলে সরকারি দল তাদের অনুগত ইসি গঠন করবে।

 

নিবন্ধন না পেলে কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, ‘শর্ত পূরণ হলে ইসি নিবন্ধন দিতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, আমরা নিবন্ধন না পেলে কোনো ভোটই হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *