রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: দারিদ্রতা ও শত প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে জমজ দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের জেসমিন (২১)। মা ও সন্তান দুটি এখন সুস্থ্য রয়েছে।
জানা যায়, শাহজাদপুর পৌর শহরের চুনিয়াখালীপাড়ায় দিনমজুর দরিদ্র ইউসুফ সাধুর মেয়ে জেসমিন। প্রায় দেড় বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়।
বিয়ের বেশ কিছুদিন পর তার স্বামী তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়, সেখানে গিয়ে জেসমিন জানতে পারে যে রফিকুল ইসলামের আগের এক স্ত্রী রয়েছে। জেসমিন বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতো। কিছুদিনের মধ্যেই জেসমিন সন্তান সম্ভাবা হয়ে গেল।
গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য তার স্বামী রফিকুল তাকে চাপ দিতে থাকে। জেসমিন রাজি না হওয়ায় তার উপরে শুরু হয় অমানুষিক নির্যাবতন। পরে জেসমিনকে তার স্বামী বাসা থেকে বের করে দেয়, প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় জেসমিন সেখান থেকে বাবা ও মায়ের কাছে শাহজাদপুরে চলে আসে জেসমিন।
দরিদ্র পিতা মাতা বিষয়টি জানতে পারলে তাদের কপালেও চিন্তার ভাজ পড়ে যায়। কারণ জেসমিনের মুখে অন্ন তুলে দেওয়াই তাদের কাছে কঠিন তার উপর আবার তার গর্ভের সন্তানের পরিচর্যা।
পিতৃালয়ে ফিরে জেসমিন বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয় জেসমিন, বাবা মায়ের কাছ থেকেও গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চাপ সুষ্টি হতে থাকে। এরই মধ্যে একদিন বাবা মায়ের সাথে সন্তান নষ্ট না করায় ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পড়ে গিয়ে পেটে আঘাত পান জেসমিন, শুরু হতে থাকে রক্তক্ষরণ।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ইন্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিষটি জানতে পেরে জেসমিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে জেসমিনের চিকিৎসা করান এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনে দেন। তার একদিন পর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তার ফেসবুক প্রোফাইলে জেসমিনের বিষয়টি নিয়ে লাইভ করেন।
লাইভটি দেখে স্থানীয় শাহবাজ খান সানি নামের একজন ব্যবসায়ী তার বড় বোন স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি নার্গিস মান্নানকে অবহিত করেন। পরদিন নার্গিস মান্নানের পক্ষ থেকে সহযোগীতা নিয়ে গত ৩১ মে জেসমিনের বাসায় যান শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী, প্যানেল মেয়র তৌহিদুর রহমান এ্যাপোলো ও শাহবাজখান সানি।
সেই সাথে নার্গিস মান্নানের পক্ষ থেকে জেসমিনের সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়া পর্যথন্ত তকে প্রতি মাসে ৫ হাজার করে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদীর পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১ হাজারা করে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এর প্রায় ৪ মাস পর গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি ক্লিনিক “পিস ল্যাব এন্ড হসপিটালে” প্রসব ব্যাথা নিয়ে জেসমিন ভর্তি হন এবং দুইটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তার সন্তানদের নাম দেন “হাসান ও হোসাইন”।পরে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে শাহজাদপুর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আশিকুল হক দিনার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রাসেল শেখ জেসমিনের ক্লিনিকের সকল খরচ দেন দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মানবতার বিষয়টি বিবেচনায় জেসমিনের ক্লিনিক খরচ মওকুফ করেন।
ভুক্তভোগী জেসমিন জানান, অশেষ কৃতজ্ঞ নার্গিস আপা, মেয়র তরু লোদী, সানি ভাই ও মাহমুদ ভাইকে। এদের সহযোগীতা না পেলে আমার সন্তানরা হয়তো আমার কোল আলোকিত করতো না, এবং আমার এই শুন্য বুক ভরে যেতো না। তিনি “হাসান ও হোসাইন” এর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
এই বিষয়ে ইন্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মহমুদ বলেন, মেয়েটি মাঝে মধ্যেই আমার বাসার সামনে দিয়ে যেতো। তার দুরাবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে সাধ্যমত সহযোগীতা করতাম। একদিন জানতে পারি যে মেয়েটির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাই এবং প্রয়োজনী ঔষধ পত্র কিনে দেই।
তিনি আরো বলেন, জেসমিন গর্ভাবস্থায় বলেছিল সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেলেই তাকে দত্বক দিবে। তবে এখন সন্তানদের মুখ দেখে তার মাতৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সে এখন বলছে আমার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে আমি বেচে থাকবো, তিনি কোন ক্রমেই তার কাছ থেকে আলাদা করবেন না।
জেসমিন ও তার দুটি সন্তানের জন্য ইন্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সামাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগীতা চান। এবং তিনি সহযোগীতা করার জন্য একটি মোবাইল নাম্বার দিয়েছেন যার নাম্বার-০১৮১৬৩০৪৪০৫।
