নজর২৪, ঠাকুরগাঁও- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বিভ্রান্তকর ও উল্টাপাল্টা কথাবার্তা না বলতে অনুরোধ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে সাংগঠনিক সফরে এসে আজ সোমবার দুপুরে তাঁর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অনুরোধ করেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ একটি সভার আয়োজন করে। সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র মেনে তারেক রহমানকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জাফরুল্লাহ সাহেব যে কথা বলেছেন… তার আসলে বয়স হয়ে গেছে। উনি অত্যন্ত সম্মানিত লোক। অত্যন্ত গুণী লোক কিন্তু বয়স হয়ে গেলে মানুষ কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলতেই পারেন। এটা স্বাভাবিকভাবে বলেছেন আরকি।’
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তা মন্তব্যটা যুক্তিসংগত না। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন,কথা বলছেন। কিন্তু তিনি একবারও ভাবছেন না,এসব কথা বললে ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলন কিছুটা ব্যাহত হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি তাঁকে (ডা.জাফরুল্লাহ) অনুরোধ জানাব, যে সমস্ত কথায় জনগণ বিভ্রান্ত হয় সেসব কথা যেন তিনি না বলেন। তারেক রহমানই হচ্ছে বিএনপির নেতা।
গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিয়ে প্রশ্নই উঠতে পারে না। দল তার নেতৃত্বে এগিয়েছে। তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে, অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব তিনি পালন করছেন।
‘আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল অত্যন্ত সু-সংগঠিত হবে। আমরা একটা আন্দোলন সৃষ্টি করতে পারব, যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা স্বৈরাচারী সরকারকে সরিয়ে জনগণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’
তারেক রহমানের দলের নেতৃত্বে আসা কোনো হঠাৎ ঘটনা নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান আগেও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। দলের মধ্য থেকেই ধারাবাহিকভাবে ছিলেন, তৃণমূলকভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মলেন করেছেন জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
‘এবং তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বিদেশে থেকেও বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলকে সুসংগঠিত করছেন, এবং তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।’
গত ১২ বছর ধরে কেবল বিএনপি নয়, গোটা দেশই রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ফখরুল। বলেন, ১৯৭১ সালের অর্জন স্বাধীনতা, ৯০ সালে যে গণতন্ত্র অর্জন হয়েছিল, তার পুরোটাই আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেছে। অর্জনগুলোকে হরণ করে নিয়ে গেছে।
দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা, তার কার্যত বন্দি জীবন আর তারেক রহমানের দেশের বাইরে নির্বাসনে থাকা দলের সবচেয়ে বড় সংকট বলেও মনে করেন ফখরুল।
