নজর২৪, ঢাকা- মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ঢাকাই ছবির আলোচিত নায়িকা পরীমণি ইস্যুতে এবার কথা বললেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, চিত্রনায়িকা পরীমণি একজন সুন্দরী নারী। তিনি অপরাধ করেছেন কিনা বা অপরাধের সাথে জড়িত কিনা তা আদালত নির্ধারণ করবে। তবে তার জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
রবিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাফরুল্লাহ বলেন, মদ আমদানির বৈধতা সরকার দিয়েছে। তবে অপরাধ করে পরবর্তী সময়ে আদালত এবং কারাভোগের পর সবারই জামিনের অধিকার রয়েছে। পরীমণির জামিনের অধিকার রয়েছে। দ্রুত জামিন আবেদন বিবেচনা করার জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া পরীমণির বিচার দ্রুত করার দাবিও করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে’ অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে মাদকসহ আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এরপর তাকে র্যাব সদর-দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব।
পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে নিয়ে বনানী থানার যায় র্যাবের টিম। এরপর র্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।
পরে ওইদিনই পরীমনি ও তার সহযোগীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানার মামলায় তাদের প্রথম দফায় চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ রিমান্ড শেষে ১০ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর দ্বিতীয় দফায় দু’দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। চিত্রনায়িকা পরীমণি বর্তমানে রয়েছেন কাশিমপুর কারাগারে।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। রোববার (২৯ আগস্ট) মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন করেন।
আবেদনে জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে রিমান্ড-সংক্রান্ত বেশ কিছু মামলার নজির তুলে ধরা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট পরীমনির নামে হওয়া মাদক মামলার জামিন আবেদনের ওপর দ্রুত শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির বিষয়ে দিন নির্ধারণের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।
১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ রুলের জবাব দেওয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা আছে।
