বিনোদন ডেস্ক- কলকাতার জনপ্রিয় নায়িকা ও সংসদ সদস্য নুসরাত জাহান মা হয়েছেন। গেলো বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তবে সন্তানের পিতৃপরিচয় আড়াল করার কারণে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই নায়িকা।
স্বামী নিখিল জৈনকে ছেড়েছেন আগেই। তারপর নায়ক যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে তার মেলামেশা সবার নজরে আসে। দুজনের প্রেমের গুঞ্জনের মাঝেই প্রকাশ্যে আসে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর। অনেকেই ধারণা করছেন প্রেমিক যশের সঙ্গে লিভ টুগেদারের ফল এই ছেলে।
গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই প্রেমিকার ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিলেন যশ। হাসপাতালে যাওয়ার পরও নুসরাতের পাশে ছিলেন তিনি। এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার পথে যশের বাড়িও ঘুরে যান অভিনেত্রী।
সবার ধারণা, নুসরাতের এই সন্তানের পিতা যশই। আসলেই কি তাই? কৌশলে এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেলেন যশ।
শনিবার (২৮ আগস্ট) আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, “আমি ছোট থেকে আজ পর্যন্ত ব্যক্তিগত জীবন কারও সামনে আনিনি। আগামী দিনেও আনব না। তা হলে ‘ব্যক্তিগত’ শব্দটার মানেই থাকে না! যেটুকু জানানোর ঠিক জানাব। যেমন- বরাবর সবাই জানতে পারছেন।”
যশের মতে, কেবল তিনি নন, এসব ব্যাপারে নুসরাতের কাছ থেকেও মন্তব্য নেওয়া উচিৎ। তিনি বলেন, ‘এই যে হঠাৎ একদিন ভুয়া খবর ছড়িয়ে গেল নুসরাত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। ও (নুসরাত) ভর্তি হলে, সন্তানের জন্ম দিলে কেন সেটা চেপে রাখব! তাছাড়া সব কথা আমি একা বলবো কেন? আমার সঙ্গিনীরও হয়তো কিছু বলার থাকতে পারে। সেটা ওর (নুসরাত) মুখ থেকে শোনাই বোধ হয় ভালো।’
নুসরাতের সন্তানের বিষয়ে যশ বলেন, ‘এটুকু বলতে পারি, এটা ভালো খবর। সি সেকশনের পর মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ রয়েছেন, তারা ভালো আছেন।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৯ জুন ভালোবেসে ধর্মীয় রীতি মেনে নিখিল জৈনর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নুসরাত জাহান। তবে এক বছরের মাথায় তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকছেন এই যুগল। কয়েক মাস আগে নুসরাত জানান, নিখিলের সঙ্গে লিভ-ইন করেছেন, তাদের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়নি। এর দু-দিন পর নিখিল দাবি করেন—নুসরাতের অনাগত সন্তানের বাবা তিনি নন। শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।
নিখিল-নুসরাতের বিচ্ছেদের জটিলতা আদালতা পর্যন্ত গড়িয়েছে। নুসরাতের সঙ্গে নিখিলের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়নি, তাই অ্যানালমেন্ট করে আলাদা হতে চান নিখিল। নিয়ম অনুযায়ী, নুসরাতকে আদালতে গিয়ে বলতে হবে নিখিলের সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
