নজর২৪ ডেস্ক- মাদক মামলায় গ্রেফতারের পর তিন দফা রিমান্ড শেষে বর্তমানে কাশিমপুরে মহিলা কারাগারে আছে আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। কারাগারের কোয়ারেন্টিন সেন্টার ‘রজনীগন্ধা ভবনে’ রাখা হয়েছে পরীমনিকে। খাবার হিসেবে সাধারণ বন্দিদের যা যা দেওয়া হয়, পরীমনিকেও তাই দেয়া হচ্ছে।
কারা সূত্র জানায়, প্রত্যেক আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর কারাগারের রেজিস্টারে তার নাম-পরিচয়সহ সব কিছু লেখা হয়। এই নায়িকার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি।
দেশের শীর্ষ একটি দৈনিকে প্রচারিত সংবাদ সুত্রে জানা গেছে , পরীমনিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর গত ১৪ আগস্ট সকালের দিকে মহিলা ডাক্তার গিয়ে নায়িকার স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ তাঁর শনাক্তকারী চিহ্ন লিপিবদ্ধ করেন। এরপর কারা কর্মকর্তারা রেজিস্টারে তাঁর নাম-ঠিকানাসহ তথ্য লিপিবদ্ধ করতে যান।
ওই সময় এক কারা কর্মকর্তা তাঁর কাছে জানতে চান, ‘কেমন আছেন আপনি?’ পরীমনির জবাব, ‘মশার কারণে সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। এ ছাড়া এতজন একসঙ্গে থাকতে গিয়েও কষ্ট হচ্ছে। এভাবে কোনো দিন থাকিনি। অশান্তিতে আছি।’
পরে কারা কর্মকর্তারা তাঁকে বলেন, ‘কারাগারে শান্তির খোঁজ করলে চলবে? কারাগার চলে কারাবিধি অনুযায়ী। বন্দি হিসেবে আপনি যা সুবিধা পাওয়ার কথা, এর বেশি পাবেন না।’
পরে কারা কর্মকর্তারা তাঁর নাম ও মা-বাবার নামের পর জিজ্ঞেস করেন, তিনি ম্যারিড না আনম্যারিড। পরীমনি বলেন, ‘আমি আনম্যারিড।’ এ তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয় বলে জানা গেছে। যদি তিনি নিজেকে বিবাহিত বলতেন, তাহলে পরের প্রশ্ন আসত—তাঁর স্বামীর নাম কী। স্বামীর নাম বলার পর আসত ছেলে-মেয়ে আছে কি না ইত্যাদি।
এক কারা কর্মকর্তা বলেন, বন্দি কারাগারে যাওয়ার পর তার পরিবারের সবার নামধাম লিখে রাখা হয় রেজিস্টারে। যখন তার মুক্তি মেলে তখন ওই তথ্য নতুন করে যাচাই করা হয়।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরুন একজন বলল তার তিন ছেলে আছে। তখন জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার মেজো ছেলের নাম কী? বলার পর সেটা রেজিস্টারে লিখে রাখা হয়। মুক্তির সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার মেজো ছেলের নাম কী? যদি নামের গরমিল না হয় তাহলে ধরে নেওয়া হয় যে সঠিক ব্যক্তিকেই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। তিন দফা রিমান্ড শেষে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন তিনি।
