ভেঙে ফেলা হলো আবরার ফাহাদের সেই স্মৃতিস্তম্ভ

নজর২৪, ঢাকা- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মরণে সকালে নির্মাণ করা স্মৃতিস্তম্ভ একই দিন সন্ধ্যায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্দ্যোগে এই স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

 

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা বুয়েটের পলাশী মোড়ে আবরার ফাহাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করেন এবং এটি বুধবার ভোরে এর কাজ সম্পন্ন হয়।

 

স্তম্ভটির নামকরণ করা হয় ‘আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ’। স্মৃতিস্তম্ভের ফলকে লেখা হয় ‘অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে’। তবে বুধবার সন্ধ্যার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে বুলডোজার এই স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে।

 

ম্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার বিষয়ে চকবাজর থানার ওসি মওদুত হাওলাদার বলেন, পুলিশ ভেঙেছে কিনা এটা আমার নলেজে নেই।

 

এদিকে স্তম্ভ ভেঙে ফেলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আবরার এ দেশে ভারতীয় আগ্রাসন ও শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস-সহিংসতার জ্বলন্ত উদাহরণ। তার স্মৃতি রক্ষার্থে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ এর উদ্যেগে এই স্মৃতি স্তম্ভটি মঙ্গলবার রাতে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্যে করলাম, সরকার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল।

 

ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, যতবার তারা এটা ভাঙবে আমরা ততোবার এটা নির্মাণ করবো। কারো আগ্রাসন ও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস এদেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।

 

উল্লেখ্য, বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হ’ত্যা করা হয়।

 

পরদিন ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে পুলিশ মোট ২৫ জনকে আ’সামি করে অভিযোগপত্র দেয়, যাদের সবাই বুয়েটের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত।

 

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে মাম’লাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *