নজর২৪ ডেস্ক- সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের নামের সঙ্গে যুক্ত থাকা মিনিস্টার কোম্পানির সাইনবোর্ড।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুই দিন যাবৎ সমালোচনার পর মঙ্গলবার সকালে দেখা যায় সাইনবোর্ডটি সেখানে আর নেই। তবে কারা ও কখন সেটি খুলে নেয় জানা যায়নি।
জানা যায়, ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মধ্যে সংযোগ পথে একটি বিলবোর্ড ছিল। যেখানে ‘চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা’ লেখার পাশেই ছিল মিনিস্টার কোম্পানির একটি বিজ্ঞাপন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আইনজীবীসহ আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক ও বিব্রতকর। এটা যারা করেছেন, তারা মোটেও ঠিক করেননি। আদালতের নামের সঙ্গে বিজ্ঞাপন বেমানান। এটা যারা করেছেন আমরা তাদের খুঁজে বের করব। এ বিষয়ে আমরা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) সঙ্গে কথা বলব।’
তবে বিলবোর্ডটি খুলে নেয়ার কথা জেনে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
এর আগে সিএমএম আদালতের সাইনবোর্ডে মিনিস্টার কোম্পানির বিজ্ঞাপন জুড়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘এভাবে বিলবোর্ড লেখাটা ঠিক হয়নি। এটা একেবারেই ঠিক না। কোনো অবস্থাতেই আদালতের সাইনবোর্ড কোম্পানির সৌজন্যে করা উচিত হয়নি। আদালত প্রাঙ্গণে কোনো রকম সাইনবোর্ড দেয়া ঠিক না।’
আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, ‘এটা না করলে ভালো হতো। এ রকম বিলবোর্ড থাকলে বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সে কারণে এভাবে কারও সৌজন্যে লেখা ঠিক না।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম মাছুম বলেন, ‘প্রাইভেট একটি কোম্পানির বিলবোর্ড আদালতের সাইনবোর্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ঘটনা শুধু দৃষ্টিকটু নয়, বিষয়টি ন্যায়বিচার পরিপন্থিও বটে।
‘এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলার উদ্ভব হলে, আদালতের বিচারিক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাতে করে বিচার বিভাগের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে।’
তবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সহসাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান তারেক বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
