আমি অসুস্থ হাঁটতে পারছি না, দয়া করে কিছু করেন: পরীমণি

নজর২৪ ডেস্ক- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) চিত্রনায়িকা পরীমনিকে সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

 

এরপর পরীমনির কথা হয় তার আইনজীবীদের সাথে। এসময় পরী মনি আইনজীবীদের বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। হাঁটতে পারছি না। জেলে থাকলে আমার অবস্থা আরও সংকটাপূর্ণ হয়ে যাবে। দয়া করে আমার জন্য কিছু করুন।’

 

পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান এ কথা বলার বিষয়টি জানান।

 

এরপর বেলা ১১ টা ৩০ মিনিটে শুনানির জন্য তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের এজলাসে তোলা হয়। তবে পরী মনিকে দেখতে আইনজীবীদের ভিড়ের জন্য শুনানি শুরু করতে বিলম্ব হয়ে ১:৪৬ মিনিটে শুরু হয়।

 

শুনানি শুরু হলে পরী মনির আইনজীবী মজিবুর রহমান আদালতে বলেন, আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কি কারণে আবার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট নয়। পরী মনির কাছে দুইবার রিমান্ড নিয়ে যা যা জানার দরকার তা হয়ে গেছে। বলা হয়েছে পরী মনির কাছে মাত্র চার গ্রাম আইস মাদক পাওয়া গেছে। কিন্তু এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১ বছর। কিন্তু মাননীয় আদালত এমন মামলায় কেন আবার রিমান্ড প্রয়োজন।

 

তিনি আরও বলেন, আসামি একজন নারী ও সম্মানীয় ব্যক্তি। তাকে যদি বার বার রিমান্ডে নেওয়া হয় তাহলে সমাজে কি মেসেজ যাবে। সবাই পরী মনির মুক্তির জন্য পত্রিকায় ও সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি করছে। আমরা মনে করছি এ মামলায় আর কিছু নেই। তাই তার রিমান্ড আর প্রয়োজন নেই বলে আমরা মনে করছি।

 

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু আদালতে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এ মামলায় অনেক তথ্য উপাত্ত বের হচ্ছে। এছাড়া আইন সবার জন্য সমান। চিত্রনায়িকা হোক আর যাইহোক।

 

পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন না মঞ্জুর করে আরও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ রিমান্ড আদেশের তিন দিনের মধ্যে জিঙ্গাসাবাদ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

 

এ শুনানি শেষে পরী মনি বিচারককে বলেন, ‘আমার নানা-ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই। এরপর বিচারক অনুমতি দেন। বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে পরী মনির নানা কাঠগড়ার বাইরে থেকে পরী মনির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পরী মনির দুই খালাত ভাই পাশে ছিলেন। দুই মিনিট কথা হয় তাদের। কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে পরী মনির খালাত ভাই বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

 

এদিকে শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় হাজতখানার গেটের সামনে পড়ে যান পরী মনি। তার আইনজীবী বলেন, পরী মনি অসুস্থ। এছাড়া জেল খানার ধকল সইতে পারছে না। কারণ তিনি একজন নারী। এ মামলায় এতোবার রিমান্ড নেওয়ার কেন প্রয়োজন। কি উদ্দেশ্য আপনারা সবই জানেন।

 

উল্লেখ্য, গেল ৪ আগস্ট পরীমণিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‍্যাব। অভিযানে নতুন মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে তারা। তার ড্রয়িংরুমের কাবার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম এবং বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলেও দাবি করা হয়। পরদিন বিকেলে পরীমণি, প্রযোজক ও অভিনেতা মো. নজরুল ইসলাম রাজ এবং তাদের দুই সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপু ও মো. সবুজ আলীকে বনানী থানায় সোপর্দ করে র‍্যাব।

 

এরপর র‍্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে৷ রাত ৮টা ২৪ মিনিটে পরীমণি ও তার সহযোগীকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানার মামলায় তাদের ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এরপর ১০ আগস্ট পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আদালতে হাজির করে ফের ৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

দুই দফায় রিমান্ড শেষে গত ১৩ আগস্ট পরীমণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *