ইভ্যালির ব্র্যান্ড মূল্য ৪২৩ কোটি টাকা

নজর২৪ ডেস্ক- দেশের আলোচিত ইকমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির নিজের ব্র্যান্ড মূল্য ৪২৩ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর একই ধরনের ব্যবসায়ের মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে ইভ্যালির ন্যূনতম ব্র্যান্ড মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা হয়। কম করে হিসাব করে ব্র্যান্ড মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু ব্যয়ের সমপরিমাণ অংশ বিবেচনা করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হিসাব দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে ইভ্যালি।

 

ইভ্যালি আরও জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত তাদের মোট দায় ৫৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল কোম্পানিকে দিয়েছেন। বাকি ৫৪৩ কোটি টাকা হচ্ছে কোম্পানিটির চলতি দায়।

 

দায়ের বিপরীতে তাদের চলতি সম্পদ রয়েছে ৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর সম্পত্তি, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে রয়েছে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ দুটির যোগফল মোট ১০৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এগুলো হচ্ছে এগুলোর স্থাবর সম্পত্তি।

 

গত ১৩ আগষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালিকে চিঠি দিয়ে গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানির দায় ও সম্পদের তথ্য, গ্রাহকদের কাছে মোট দেনার পরিমান এবং মার্চেন্টদের কাছে দেনার পরিমান ও দেনা পরিশোধের পরিকল্পনা জানানোর নির্দেশ দেয়। তার প্রেক্ষিতে ইভ্যালি এ তথ্য দিয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ২২ আগষ্ট থেকে ইভ্যালির অফিস স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু করা হবে।

 

ইভ্যালি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল চিঠিতে দাবি করেছেন, বর্তমানে কোম্পানির ইনট্যানজিবল অ্যাসেট বা বাস্তবে নেই এমন সম্পদ ৪৩৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ব্র্যান্ডভ্যালু, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদিকে ইনট্যানজিবল অ্যাসেট বলা হয়ে থাকে। ইভ্যালির এ ধরণের সম্পদের মধ্যে কোম্পানির ব্র্যান্ডভ্যালু ধরা হয়েছে ৪২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

 

ইভ্যালি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কোম্পানিতে ই-কমার্স ছাড়াও ইফুড, ইজবস, ইবাজার, ইহেলথ, ফ্লাইট এপপার্ট ডিজিটাল প্লাটফর্ম যুক্ত হয়েছে। কোম্পানির সার্বিক ব্র্যান্ডভ্যালু আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। এছাড়া ১০৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ট্যানজিবল বা বাস্তবে সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী সম্পদ ও যন্ত্রপাতি রয়েছে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকার আর চলতি সম্পদ রয়েছে ৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

 

ইভ্যালির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ক্রেতা ও সরবরাহকারিদের পাওনা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক দেনা রয়েছে ৫৪৩ কোটি টাকা। তবে ক্রেতা, সরবরাহকারিদের দেনার পরিমান আলাদা করে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ইভ্যালি তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির যে হিসাব দিয়েছে, তাতে এর মোট সম্পদ মূল্য ১০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করলে দেনার মাত্র ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ পরিশোধ করা সম্ভব।

 

চিঠিতে আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ও সাম্প্রতিক সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর একই ধরণের ব্যবসায়ের মূল্যায়ণের প্রেক্ষিতে বর্তমানে ইভ্যালির ন্যূনতম ব্রান্ডভ্যালু দাঁড়ায় ৫ হাজার কোটি টাকা। তবে কোম্পানির ব্রান্ডভ্যালু নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তারা শুধুমাত্র ব্যয়ের সমপরিমাণ অংশটুকু বিবেচনা করা হয়েছে।

 

গত জুন মাসে এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত ক্রেতা ও সরবরাহকারিদের কাছে ইভ্যালির দায়ের পরিমাণ ৪০৩ কোটি টাকা। আর কোম্পানির চলতি সম্পদের মূল্য ৬৫ কোটি টাকা। ওই প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয ব্যাংক জানিয়েছিলো গ্রাহকদের থেকে ২১৪ কোটি টাকা আগাম নিয়ে পণ্য সরবরাহ করেনি ইভ্যালি। এছাড়া ওই সময় পর্যন্ত সরবরাহকারিদের পাওনা ১৯৯ কোটি টাকাও পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালি কোম্পানির দায়-দেনার হিসাব জমা দিয়েছে। ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের পাওনার তথ্য জানিয়েছে। তাদের কাছে এসব দেনা পরিশোধের ও ব্যবসা পরিকল্পনার তথ্যও চাওয়া হয়েছে। সব তথ্য পাওয়ার পর সরকার গঠিত এ সংক্রান্ত কমিটি বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *