আসিফ নজরুলকে গ্রেফতারের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আল্টিমেটাম, কঠোর হুঁশিয়ারি

নজর২৪ ডেস্ক- আসিফ নজরুলকে রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্যের অপরাধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে চাকরিচ্যুতসহ দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

 

বুধবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে গিয়ে আসিফ নজরুলের অফিসে তালা লাগিয়ে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশি সমাজ এবং রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ করে আসছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা, রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তির দোসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলঙ্ক আসিফ নজরুল কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জঙ্গিবাদের মদদদাতা আসিফ নজরুলকে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করতে হবে।

 

সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মৌলবাদের মদদদাতা আসিফ নজরুলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। শিক্ষক নামের কলঙ্ক আসিফ নজরুলকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে। জঙ্গি তালেবানের সমর্থনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে আসিফ নজরুলকে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুতসহ দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি অপশক্তির পেইড এজেন্ট আসিফ নজরুল ২০১২ সালে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর পক্ষে কথা বলেছিল। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত সম্পর্কে সে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিল। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে আসিফ নজরুল যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্ত কুখ্যাত রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যুদ্ধাপরাধী নয় বলে মন্তব্য করেছিল। সে আরও বলেছিলেন, সাঈদী নাকি একাত্তরে কোনো রাজনৈতিক দল করতেন না। তাই তিনি যুদ্ধাপরাধী নন বলে মন্তব্য করেছিল জামাতের পেইড এজেন্ট আসিফ নজরুল।

 

এর আগেও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের বিশ্বাস ভঙ্গ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অনেক দালিলিক প্রমাণ সে রাজাকার গোলাম আযমের কাছে বিক্রি করে উচ্চ শিক্ষার নামে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি আফগানিস্তানে জঙ্গি তালেবানরা জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য করেছেন যা দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান পরিপন্থী।

 

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কাবুল বিমানবন্দর ধরনের দৃশ্য বাংলাদেশেও হতে পারে বলে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা পুরোপুরি রাষ্ট্র বিরোধী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলোকে উসকে দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের কোন কোন তালেবান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে এটা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে যারা তালেবান সমর্থনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

আল মামুন আরও বলেন, আসিফ নজরুলের এধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জঙ্গিদেরকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের লিপ্ত হওয়ার জন্য উসকানি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে আসিফ নজরুল। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এরকম রাষ্ট্র বিরোধী ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা থাকতে পারে না।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট আহবান, ঢাবির কলঙ্ক আসিফ নজরুলকে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত করতে হবে। কারণ মুক্তচিন্তার নামে সে জঙ্গিবাদকে মদদ দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত সে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে যা কখনোই মেনে নিবে না বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করা এবং তালেবান জঙ্গিদের সমর্থনের মাধ্যমে আসিফ নজরুলের প্রকৃত চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আহ্বান, অবিলম্বে আসিফ নজরুলকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসিফ নজরুলকে চাকরিচ্যুতসহ গ্রেফতার না করলে কঠোর আন্দোলনে যাবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

 

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

 

আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রোমান হোসাইন, মাকসুদ হাওলাদার, শাহীন মাতবরসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *