অবশেষে পরীমণির পাশে দাঁড়ালেন অঞ্জনা, করলেন জামিনের আকুতি

বিনোদন ডেস্ক- দিন দশেক আগে হালের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অঞ্জনা। যেদিন (৮ আগস্ট) মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার জেরে পরীমনি ও চিত্রনায়িকা সিমন হাসান একার সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

 

এদিন বিকালে এফডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরীমনির বিষয়ে অঞ্জনা বলেছিলেন, ‘সে ঘরের মধ্যে কী করলো সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। কিন্তু তার ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ বা কর্মকাণ্ড যদি জনসম্মুখে চলে আসে, তখনই শিল্পী সমিতির দেখার বিষয়। সমিতি সেটা সহ্য করবে না।’

 

এমন কড়া বার্তা দেওয়ার ১০ দিনের মাথায় এবার পরীমনির জামিনের জন্য প্রার্থনা করলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা। গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে নিজের জন্মদিনের আয়োজন করেন পরীমনি। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন অঞ্জনাও। সেই অনুষ্ঠানে পরীমনির সঙ্গে তোলা একটি ছবি বুধবার সকালে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।

 

ওই ছবির ক্যাপশনে অঞ্জনা লেখেন, ‘আমরা কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। জীবনে চলার পথে সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকলে অবশ্যই জীবন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই ভুল পথে অতিবাহিত হয়।’

 

এরপর পরীমনির বিষয়ে অভিনেত্রী লেখেন, ‘পরিমনি একটা এতিম মেয়ে। শৈশব থেকে পারিবারিক মায়া মমতার কোনো স্পর্শ পায়নি। পারিবারিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। তাই হয়তো না বুঝেই অন্য পথে ধাবিত হয়েছিল তার জীবন। আরেকটি কথা বলতেই হয়, শিল্পী হিসেবে পরীমনি যথেষ্ট ভালো অভিনয় করে। সে দেখতেও অপূর্ব সুন্দরী।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র সমৃদ্ধ করতে অবশ্যই পরীমনির প্রয়োজন আছে। আমি আশা করি সবকিছু ছাপিয়ে সে ভবিষ্যতে অভিনয়ে মনোযোগী হবে। সর্বোপরি সবকিছু বিবেচনা করে একটা অসহায় মেয়ের সার্বিক সুদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা ভাবনা পর্যালোচনা মোতাবেক আমি এদেশের আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সম্মান প্রদর্শন করে শুধু একটি বিনীত অনুরোধ জানাবো, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে পরীমনির জামিন মঞ্জুরের আদেশ প্রদান করলে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।’

 

এদিকে, বনানী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

যে কারণে আজ জামিন আবেদনের শুনানি হয়নি। আদালতে কাল একসঙ্গে জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু।

 

আরও পড়ুন-

‘পরীমণির মতো ভদ্র শিল্পী কমই দেখেছি, দেখলেই পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতো’

 

বিনোদন ডেস্ক- পরীমণিকে বলা হয় এই সময়ের ঢাকাই সিনেমার ‘গ্ল্যামার গার্ল’। সম্প্রতি মাদক মামলায় জড়িয়ে টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হন এই চিত্রনায়িকা। নন্দিত-নিন্দিত দু’ভাবেই তিনি পরিচিত।

 

তাকে নিয়ে মুখরোচক অনেক কিছুই অন্তর্জালে ভেসে বেড়ায়। এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- কর্মক্ষেত্রে কেমন ছিলেন এই নায়িকা? অর্থাৎ পরীমনির লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের যে জগৎ সেখানে নির্মাতাদের চোখে তিনি কেমন ছিলেন?

 

 

চলচ্চিত্রে পরীমনির ক্যারিয়ার শুরু হয় শাহ আলম মন্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে। পরীমনি প্রসঙ্গে এই নির্মাতা বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারেও প্রথম সিনেমা ছিল এটি। আমি যতদূর দেখেছি সে ভালোভাবেই কাজ করেছে। কখনও খারাপ কিছু দেখেনি। তার মধ্যে উগ্রতা চোখে পড়েনি।’

 

‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার শুটিং চলাকালেই ‘রানা প্লাজা’য় যুক্ত হন পরীমনি। এই সিনেমার নির্মাতা নজরুল ইসলাম খান। পরী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘রানা প্লাজা’ সিনেমার জন্য নতুন মেয়ে চাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই পরীমনির সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে ভেবেছিলাম সে হয়তো পারবে না। এ জন্য আরেকজন নায়িকা রেডিও করে রেখেছিলাম। কিন্তু প্রথম শটই ওকে হয়। অনেক পরিশ্রমি ও মেধাবী একজন শিল্পী পরীমনি। আমি কখনও ওর মধ্যে খারাপ কিছু পাইনি। ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়েও সে শুটিং করেছে। কখনও না বলেনি। কাজের প্রতি সিরিয়াস ছিল। আমাকে দেখলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতো। সত্যি বলতে ওর মতো ভদ্র, মার্জিত শিল্পী আমি কমই দেখেছি।’

 

পরীমনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তার বিচার কাজ চলছে। কেন এমন হলো বুঝে উঠতে পারছেন না নজরুল ইসলাম খান। তবে তার ভাষ্য হলো ‘পরীমনি ক্ষতি করে থাকলে সেটা রাষ্ট্র দেখবে। প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। তবে আমি চাই পরী ফিরে এসে কাজ শুরু করুক। ওর মতো শিল্পী সিনেমায় দরকার।’

 

পরীমনির ক্যারিয়ারে আলোচিত সিনেমা ‘অন্তরজ্বালা’। এই সিনেমার নির্মাতা মালেক আফসারি বলেন, ‘আমার সঙ্গে শুধু পরী না সব শিল্পীরাই সিনসিয়ার থাকে। ব্যাসিকেলি শিল্পীরা যখন কাজ করতে আসে তখনই বুঝে যায় ইউনিট কেমন। তারা যদি দেখে টোটাল ইউনিট খুব সিরিয়াস তখন তারাও সিরিয়াস হয়ে যায়। পরী কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।’

 

‘ফেইসবুকে পরীমনির বিকিনি পরা ছবি দেখে আমি আমার নাম উল্লেখ না করে একটি পোষ্ট দেই। সেখানে লিখেছিলাম, আমাদের এটা ইসলাম কান্ট্রি। তাই নায়িকাদের আরো হুঁশিয়ার হয়ে চলা উচিত। বিষয়টা পরী বুঝতে পেরে সেও নাম উল্লেখ না করে ফেইসবুকে পোষ্ট দেয়- আপনি সিনেমার পরিচালক আছেন সিনেমা পরিচালনা করেন। আমাকে ডারেকশন দিতে আসিয়েন না। এরপর আমি পোস্টটা ডিলিট করে দেই।’ বলেন আফসারি।

 

এ ঘটনার পরও দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় ছিল উল্লেখ করে জনপ্রিয় এই নির্মাতা বলেন, ‘বোট ক্লাবে এত রাতে যাওয়ার পরেও তার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছি। কারণ তার কান্নাকাটি দেখে খারাপ লেগেছে। মনে হয়েছে যে ওর উপর অন্যায় হয়েছে। সে এমন একজন সেলিব্রেটি দেখেন কোর্টে তার পক্ষে কে লড়বে এটা নিয়ে ঝগড়া। আদালত লোকে লোকারণ্য। সিনেমায় করোনায় যে প্রভাব, তার কাছে এই প্রভাব তুচ্ছ।’

 

পরীমনির আরেকটি আলোচিত সিনেমা ‘স্বপ্নজাল’। এই সিনেমায় তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমার নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমরা প্রফেশনালি কাজ করেছি। আমি তাকে নিয়ে ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পেরেছি। টাইমলি সেটে আসা নিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে জটিলতা হয়। পরীর ক্ষেত্রে তা পাইনি। সে টাইমলি সেটে আসতো। তাকে নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে এট লিস্ট কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।’

 

উল্লেখ্য, মাদক মামলায় ১৩ আগস্ট পরীমণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওইদিন প্রিজনভ্যানে করে পরীমণিকে সন্ধ্যা ৭টায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এখন তিনি সেখানে আছেন।

 

কারাসূত্র জানায়, নায়িকা পরীমণিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে (রজনীগন্ধা ভবন) রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত হননি তাই কোয়ারেন্টাইন সময় পার হওয়ার পর তাকে অন্য বিচারাধীন সাধারণ বন্দির সঙ্গেই রাখা হবে।

 

১০ আগস্ট পরীমণি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। এর আগে ৫ আগস্ট পরীমণি ও দীপুর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।

 

তার আগে গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‍্যাব। পরীমণির বাসা থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র‍্যাবের সদরদফতরে। সেখানেই রাত কাটাতে হয়। ৫ আগস্ট র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। সেদিনই তাদের আদালতে নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *