নিরবতা ভেঙে অবশেষে পরীমণি ইস্যুতে মুখ খুললেন ওমর সানি

নজর২৪ ডেস্ক- বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি। চারিদিকে এখন তাকে নিয়েই চলছে নানা সমালোচনা। এবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন এক সময়ের তারকা অভিনেতা ওমর সানি।

 

গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরীমনির গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং এ নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

 

নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে ওমর সানি লিখেছেন, ‘আইন বলে ইনোসেন্ট, A person is innocent until proven guilty. যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ প্রমাণ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি কেবল অপরাধের জন্য অভিযুক্ত, দোষী নয়। কিন্তু পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে আমরা কি দেখলাম? চলচ্চিত্র থেকেই তাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন করে তাকে অপরাধী প্রমাণ হবার আগে আমরা শাস্তি দিয়ে দিলাম। বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে, বিনোদন জগৎ সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মনকে বিষিয়ে দেওয়া হলো না? এর আগেও তো একজন নামী অভিনেতা, প্রযোজক জেল খেটেছেন। কই তাঁর বেলায় তো এই নিয়ম ছিল না।

 

যাই হোক এবার মূল কথায় আসি। পরীমনির বাড়ি থেকে যে পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে, তা দেখে প্রশ্ন জাগে এই পরিমাণ বোতল তো পরীমনি বাড়ির পাশের মুদির দোকান থেকে কেনেনি বা নিজে বাড়িতে তৈরি করেনি। তাহলে এই মাদকদ্রব্যের সরবরাহ কোথা থেকে হলো, কার কাছ থেকে এগুলো কিনলো বা সংগ্রহ করলো। মূল রাঘব বোয়ালদের আগে ধরতে হবে। তারা সবসময়ই আড়ালে থেকে যায়। আমি জানি না পরীমনি মূল অপরাধী কি-না।

 

তবে চলচ্চিত্রের একজন শিল্পী হিসেবে বুঝি মুম্বাইয়ের চিত্রজগতে যা ঘটেছিল, এক প্রভাবশালী ধনী ব্যবসায়ী এক সুন্দরী নায়িকাকে তার লালসার শিকার করতে না পেরে তার বন্ধু একজনের সহায়তায় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে যেভাবে তার জীবন ও ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছিল, ঢাকায় পরীমনির ক্ষেত্রে সেই ষড়যন্ত্রের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীও সেই কথাটা বলেছেন একটা লেখায়। বরং রিহ্যাবে দিয়ে তাকে সুস্থ করার দায়িত্বও এই সমাজের। তাকে ভুল শোধরানোর সময় দিতে হবে।

 

রাজধানীতে পরীমনিকে যারা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে লাভবান হয়েছেন। তারা যদি বেআইনিভাবে অর্থ উপার্জন করে থাকেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা উচিত। বিশেষ করে পরীর কাছের মানুষদেরও দায় আছে। যারা তার কাছে থেকেও ভালো পরামর্শ দেবার কথা কিন্তু তা না দিয়ে মা, বেবী, মামা, বলে বলে নানা সময় নানা ফায়দা নিয়েছেন। আমি নিজে ধোয়া তুলশি পাতা না। আমিও একসময় সিগারেটসহ নানা আড্ডায় যেতাম। তবে তা শুধরিয়ে নিয়েছি। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু স্পর্শ করি না এখন।

 

আমরা আইন প্রয়োগের বিভিন্ন ধাপ যত বেশি স্বচ্ছ আর আবেগমুক্ত রাখতে পারবো, তত বেশি করে নিশ্চিত করতে পারবো দেশে আইনের শাসন এবং আইনের প্রতি জনগণের আস্থা। একজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক হিসেবে, একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে, একটি স্বাভাবিক, মর্যাদাপূর্ণ আর নিরাপদ জীবন আমাদের দাবি। এই দাবি পূরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের দায়িত্বের অংশটুকু যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

 

তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই পরীমনি এখনো কোটি ভক্তের মনে গেঁথে আছে। একজন অভিনয়শিল্পী। তাঁর ক্যারিয়ার সবে শুরু। তার ভুল শোধরানোর সুযোগ দিলে হয়তো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারবে। তাতে চলচ্চিত্রশিল্পও একজন অভিনয়শিল্পীকে হারাবে না।’

 

মাদক মামলায় ১৩ আগস্ট পরীমণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওইদিন প্রিজনভ্যানে করে পরীমণিকে সন্ধ্যা ৭টায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এখন তিনি সেখানে আছেন।

কারাসূত্র জানায়, নায়িকা পরীমণিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে (রজনীগন্ধা ভবন) রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত হননি তাই কোয়ারেন্টাইন সময় পার হওয়ার পর তাকে অন্য বিচারাধীন সাধারণ বন্দির সঙ্গেই রাখা হবে।

 

১০ আগস্ট পরীমণি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। এর আগে ৫ আগস্ট পরীমণি ও দীপুর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।

 

তার আগে গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‍্যাব। পরীমণির বাসা থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র‍্যাবের সদরদফতরে। সেখানেই রাত কাটাতে হয়। ৫ আগস্ট র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। সেদিনই তাদের আদালতে নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *