নজর২৪ ডেস্ক- অবশেষে নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছেন ঢাকাই ছবির শীর্ষ তারকা শাকিব খান। চলচ্চিত্রের অপর শীর্ষ নায়িকা পরীমণি গ্রেফতারের ১০ দিনের মাথায় বিষয়টি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
অন্যদিকে, কাঠগড়ায় তুলেন চলচ্চিত্র শিল্পীদের ‘কল্যাণে’ কাজ করা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও।
শাকিব বলেন, “…শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমনি গ্রেপ্তারের পর তার প্রতি কোনো ধরনের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, দুঃসময়ে শিল্পীর পাশে না থেকে উল্টো তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মুহূর্তে পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে! এ যেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা!
“সমিতির এই আচরণ সত্যিই খুব রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে বিবেকবান অনেক সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আক্ষেপ রয়েছে। শিল্পীর সাথে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনকার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে?”
শাকিব খানের অভিযোগের বিষয়ে শনিবার (১৪ আগস্ট) বিকালে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওটা তিনি দিতেই পারেন। সে একজন পার্শ্ব শিল্পী। তার অভিমত সে ব্যক্ত করেছে, করুক। একটা নিয়ে কিছু বলার নেই।”
শিল্পী সমিতির বিরুদ্ধে শাকিব খানের এমন অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবেন কি না?-এমন প্রশ্নের জবাবে জায়েদ খান বলেন, “আমি আসলে পোস্টটি দেখিইনি। এখন কোনো বক্তব্য আমরা দেব না। ১৫ অগাস্টে আমাদের কার্যক্রম আছে। সেটা শেষ হলে দেখব, কী করা যায় ।”
“বিষয়টি নিয়ে তার (শাকিব খান) আরও আগেই বলা উচিত ছিল। ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেলে লাভটা কী,” মন্তব্য করেন জায়েদ খান।
পরীমনি ও একার সদস্যপদ স্থগিতের কারণ হিসেবে এর আগে সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, “তাদের কর্মকাণ্ডে শিল্পী সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তাদের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থাগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তীতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৬ এর খ এবং ৯ এর গ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে কোনো কাজে জড়িয়ে গেলে তার সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।
সদস্যপদ স্থগিতের ঘোষণার আগে জায়েদ খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দুয়েকজন শিল্পীর জন্য যদি শিল্পী সমাজের সুনাম নষ্ট হয়, তাহলে সেটা তারা মেনে নেবেন না। শিল্পীরা সমাজের আইডল হবে; তারা কাজ করবে, সবাই দেখবে। তারাই যদি অপকর্মে জড়িয়ে যায়, তাহলে তার দায়ভার সেই শিল্পীরই।
একা বা পরীমনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেয়েছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পী সমিতির এ নেতা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতাম।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট চিত্রনায়িকা পরীমণিকে তার বনানীর বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর মাদক মামলায় দুই ধাপে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল পরীকে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তাকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর কারাগারে।
