পরীমণিকে নিয়ে রাজনীতি চলছে : জায়েদ খান

বিনোদন ডেস্ক: নায়িকা একা ও পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করা নিয়ে অনেকেই রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

 

শনিবার (১৪ আগস্ট) জায়েদ খান এ মন্তব্য করেন।

 

এর আগে ৭ আগস্ট বিকালে এফডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একা ও পরীমনির সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানান সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

 

চিত্রনায়ক জায়েদ খান বলেন, নায়করাজ রাজ্জাক, নায়ক ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জল ভাইয়ের মতো বরেণ্য শিল্পীরা এই সমিতি করেছেন। আমরা যেন সঠিকভাবে সমিতি পরিচালনা করতে পারি, সেই জন্য তারা সমিতির জন্য তৈরি করেছেন গঠনতন্ত্র বা সংবিধান। যা অনুসরণ করে আমরা সমিতি পরিচালনা করে থাকি। এর বাইরে আমাদের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

সংবিধান রক্ষার্তে নায়িকা একা ও পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে, তবে শিল্পী হিসেবে তাদের পাশে আছি এবং থাকব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, করোনার সময় সবাই যখন ভয়ে ঘরবন্দী এমন সময় করোনা আক্রান্ত শিল্পীর লাশ কাঁধে নিয়েছি। আক্রান্ত শিল্পীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি, তারা আমাদের দেখে জড়িয়ে ধরেছেন। কোনো শিল্পীর করোনায় মৃত্যু হলে গোসল করিয়েছি। শিল্পীদের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবনের পরোয়া করিনি। সেখানে আমরা কিভাবে শিল্পীদের থেকে দূরে সরে যাব।

 

জায়েদ বলেন, পরীমনি ও একা রিমান্ডে থাকার সময় ডিবি অফিসে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

 

এখন এক শ্রেণীর মানুষ বিষয়টিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, এই বিষয়টিকে ইস্যুতে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন জায়েদ খান।

 

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, গত ৭ আগস্ট শনিবার আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি। তার ঠিক সাতদিন পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলে অনেকেই রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। আমরা যা করছি তা সমিতির সংবিধান রক্ষা করে এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে।

 

ঢাকার বনানীর বাসায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ৪ অগাস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর ৭ অগাস্ট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) সংবাদ সম্মেলন করে তার সদস্যপদ স্থগিতের ঘোষণা দেয় শিল্পী সমিতি।

 

তার এক সপ্তাহ পর চলচ্চিত্র শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গঠিত শিল্পী সমিতির এই ভূমিকাকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যায়িত করে শনিবার সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনায় শামিল হন সাবেক সভাপতি শাকিব খান।

 

শাকিব খান তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, “…শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমনি গ্রেপ্তারের পর তার প্রতি কোনো ধরনের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, দুঃসময়ে শিল্পীর পাশে না থেকে উল্টো তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মুহূর্তে পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে! এ যেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা!

 

“সমিতির এই আচরণ সত্যিই খুব রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে বিবেকবান অনেক সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আক্ষেপ রয়েছে। শিল্পীর সাথে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনকার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *