নজর২৪, ঢাকা- যুবলীগ থেকে অব্যাহতি পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত মুখ ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। তার দাবি, সংগঠন ভালো বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংগঠনে না থাকলেও ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জয় বাংলা’কে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া এ আইনজীবী।
নিজের ফেসবুক পেজ থেকে রোববার দুপুরে ‘যতদিন বেঁচে আছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যেতে চাই’ শিরোনামে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আপনারা জেনেছেন যে, গতকাল আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আইন সম্পাদক পদ থেকে সাময়ীক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। অনেকেই এ বিষয়ে আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। আমি আপনাদের বলতে চাই, এখানে আমার প্রতিক্রিয়া খুবই ইতিবাচক। আমি বিশ্বাস করি, দল যখন কোন সিদ্ধান্ত নেয় তখন দলের ভালো হবে এমন চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। আমার এ সিদ্ধান্তে কোনও দ্বিমত নেই। আমি বিশ্বাস করি, দল তার ভালোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
‘আমি আরেকটা কথা বলতে চাই- বাংলাদেশ, জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু এসব ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। যারা জয় বাংলা এবং বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করে না তাদের নৈতিকভাবে কোনও অধিকার থাকে না এ বাংলাদেশে থাকার। কারণ, আমাদের বঙ্গবন্ধু হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক। আমি শুধু একুটুই বলার চেষ্টা করেছি, এটি বুকে ধারণ করতে হয় এবং সবসময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এই স্লোগানটি হবে বাংলাদেশের স্বার্থে, আওয়ামী লীগের স্বার্থে, আপামর মানুষের স্বার্থে- এটুকুই আমি শুধু বলার চেষ্টা করেছি।
‘আরেকটি কথা বলতে চাই, আজকে আমার মা আমার সাথে কথা বলার সময় আমার কাছে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, যুবলীগ থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে আমার মন খারাপ হয়েছে কিনা? আমি আমার মাকে উত্তর দিয়েছি যে, পদ থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়ায় আমার মন খারাপ হয়নি। কিন্তু যারা অনেক আশা করে আমাকে এই পদে নিয়ে এসেছিলেন, তাদের জন্য মন খারাপ হয়েছে।’
‘আপনারা জানেন যে, এবারের যুবলীগের কমিটিতে কেউ লুটপাট বা লেনদেন করে নেতা হয়নি। সবাই তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যতা এবং যোগ্যতার কারণে নেতা হয়েছেন। বিশেষ করে যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি যিনি আমাকে উচ্ছ্বসিত করে প্রশংসা করেছেন- তাদের ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না।’
‘আর আমি বিশেষভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে, যারা আমাদের দল (আওয়ামী লীগ) করেন বা আমরা একই আদর্শের সৈনিক তারা যদি কোন কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি খুবই ক্ষমাপ্রার্থী।’
আর একটা কথা বলতে চাই, আজকে আমাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, দুই বছর পরতো এমনিতেই হয়তো কমিটি থাকবে না (মেয়াদ শেষে)। তবে এরপরে আমি যেভাবে কাজ করতাম…। এখনও আমি বিশ্বাস করি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি জয় বাংলা লোক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক। যদি কেউ বাংলাদেশকে ভালোবাসে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে তবে তাদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক বলেই বিবেচনা করা হবে। কেননা, বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। তাই আমি বলি, পদে আছি বা না থাকলেও আমার রক্তে-মাংসে যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এই মশাল আমি আমার ভেতরে জ্বালিয়ে রাখবো।’
উল্লেখ্য, শনিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল শনিবার (৭ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কর্মসূচিতে স্লোগান দিয়েছিলেন সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন। “শুভ শুভ দিন শেখ কামালের জন্মদিন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” ওই স্লোগানের ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। প্রকাশ্যে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে স্লোগান দেয়ায় ওসি সরকারি বিধিমালা ১৯৭৯ লঙ্ঘন করেছেন এমন কথাও বলেন কেউ কেউ।
এই ঘটনার পর যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার সুমন সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেন। ৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ওসির এই স্লোগানের নিন্দা জানান ব্যারিস্টার সুমন।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থেকে দল ও মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা স্লোগানের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
