আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টে শপথ নিয়েছেন দেশটির কট্টরপন্থী শিয়া মতাবলম্বী ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ আইনজীবী ইব্রাহিম রাইসি। দেশে এবং বিদেশে ক্রমবর্ধমান সংকটের মুখে ইসলামী এই প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন তিনি।
গত জুনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া শিয়া এই ধর্মীয় নেতার আনুষ্ঠানিকভাবে চার বছরের মেয়াদের অভিষেক হয়েছে মঙ্গলবার। ওইদিন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নির্বাচনে ইব্রাহিম রাইসির জয়ের স্বীকৃতি দেন। ওই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের অযোগ্য ঘোষণা করায় রাইসির জয়ের পথ সুগম হয় বলে অভিযোগ আছে।
রাইসির প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে ইরানের ক্ষমতার সব শাখা-প্রশাখাই পশ্চিমা-বিরোধী খামেনির অনুগত কট্টরপন্থীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রত হবে।
বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত শপথ অনুষ্ঠানে রাইসি বলেন, পবিত্র কোরআন এবং জাতির সামনে, আমি সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশের ধর্ম এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পাশাপাশি সংবিধান রক্ষার শপথ করছি।
বিচারপতি থাকাকালীন বিরোধীদের ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ইরানের নতুন এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত আগের নিষেধাজ্ঞা এখনও কার্যকর আছে। তারপরও তিনি দেশটির ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন শপথ অনুষ্ঠানে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রফতানি এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শপথ নেওয়ার পর দেশের কল্যাণে এবং প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইব্রাহিম রাইসি। তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ প্রত্যাশা করে নতুন সরকার তাদের জীবনমানের উন্নতি করবে। ইরানিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব ধরনের অবৈধ নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।
দুই মেয়াদে আট বছর দায়িত্ব পালন করেছেন সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তার জায়গায় দায়িত্ব নিলেন ইব্রাহিম রাইসি। তার শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিচার বিভাগের প্রধান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও রীতি অনুযায়ী রাইসির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইব্রাহিম রায়িসি ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে ভূমিধস বিজয় লাভ করেন।
