নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়দাতা হিসেবে ঢাকাকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা চ্যাপ্টারের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি অনেকটা নমনীয় অবস্থান দেখানো হয়।
একদিন আগে, বিশ্বব্যাংক আবদার জানিয়েছিল বাংলাদেশি নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকেও তার সব সুবিধা দিতে হবে ঢাকাকে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির প্রস্তাব বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জমি কেনার সুযোগ দেয়া হোক, তাদের স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে দেয়া হোক, তাদের নিজেদের মধ্যে নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হোক।
বাংলাদেশ এই প্রস্তাব মানলে বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছে তারা। তবে বাংলাদেশ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা স্থায়ীভাবে রেখে দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবকে অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।
সোমবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক জরুরি প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টা দেশের জন্য। যেসব দেশে রিফিউজি আছে, সেখানে তাদের হোস্ট কান্ট্রিতে ইন্টিগ্রেট করার বিষয়ে। যেহেতু রোহিঙ্গারা রিফিউজি না, আমরা এটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান কী, এমন প্রশ্নে সংস্থাটি বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে ও তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়দাতা হিসেবে ঢাকাকে সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর রোহিঙ্গাদের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তা করছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।
শরণার্থী নীতিমালার পর্যালোচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী, পানি ও পয়োনিষ্কাশন, জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর সড়কসহ মৌলিক অবকাঠামো, সৌরবাতি ও দুর্যোগ প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে ৫৯০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কক্সবাজারের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার কী, সেটা বুঝতে সহায়তা করছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ৫৯০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। যার পুরোটাই অনুদান, ঋণ নয়।
শরণার্থী ও তাদের আশ্রিত দেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকারিতা ও প্রভাব মূল্যায়নের লক্ষ্যে শরণার্থী নীতিমালার পর্যালোচনা করা হয় বলে বিশ্বব্যাংক তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। এই মুহূর্তে শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে, এমন ১৪টি দেশের প্রতিটির জন্য এ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
শরণার্থী-সংক্রান্ত রূপরেখার পর্যালোচনা কীভাবে সম্পন্ন হয়, এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক তাদের বিবৃতিতে বলেছে, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) আরপিআরএফ অনুসরণ করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বিদ্যমান নীতিমালা, এর প্রয়োগ ও কর্মসূচির ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।
শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা দেশের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ কিছু প্রস্তাবসংবলিত ‘রিফিউজি পলিসি রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে ১৬টি দেশের শরণার্থী ব্যবস্থাপনা নীতি সংস্কারের জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা দপ্তর থেকে বাংলাদেশকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই রূপরেখার বিষয়ে মতামত দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে এই সময় বাড়িয়েছে বিশ্বব্যাংক।
