‘টাকা দিলে ভাইরাল করে দিব, এমপি হওয়া ফাইনাল’, হেলেনার ফোনালাপ ফাঁস

নজর২৪ ডেস্ক- ‘টাকা টুকা দিবে? টাকা দিলে একেবারে ভাইরাল করে দিব। একদম। পরবর্তীতে এমপি ফাইনাল। আমি তো ভাইরাল করার ওস্তাদ।’

 

কথাগুলো অপরপ্রান্তের অজ্ঞাত একজনকে বলছিলেন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী এবং জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা জাহাঙ্গীর (হেজা)।

 

অপর একটি অডিও ক্লিপসে হেলেনা জাহাঙ্গীর তার ব্যক্তিগত সহকারীকে বলছিলেন, মেহেদী নামের একজন মালয়েশিয়া প্রবাসীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য। তাহলে তাকে মালয়েশিয়ার ব্যুরো চিফ বানিয়ে দিবেন।

 

অন্যদিকে, হেলেনার প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা করছে পুলিশ। তবে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।

 

এদিকে, প্রথম অডিও ক্লিপসের অপরপ্রান্তের অজ্ঞাত ব্যক্তি হেজা-কে বলছিলেন, কাল পরশু নতুন একটা গেস্ট পাঠাব। বিএনপির এক নেতা আছে তো! হেজার প্রশ্ন ছিল, বিএনপি না আওয়ামী লীগ? অপরপ্রান্ত থেকে বলা হচ্ছিল, আরে বিএনপির। মোংলার রামপাল আছে না? ওখানের এমপি ইলেকশন করছিল। হেজা বলছিলেন, ‘টাকা টুকা দিবে?’

 

অজ্ঞাত সেই লোক বলছিলেন, আরে নাহ। এমনি যাবে। হেজার উত্তর ছিল, টাকা দিলে একেবারে ভাইরাল করে দিব। একদম। পরবর্তীতে এমপি ফাইনাল। আমি তো ভাইরাল করার ওস্তাদ। অপরপ্রান্ত থেকে ওই ব্যক্তি বলছিলেন, প্রাথমিক স্টেজে তো চাওয়া যায় না! আগে ইনভলব করি। এদের তো পরে মুরগি বানাব।

 

আরেকটি ক্লিপসে হেলেনা জাহাঙ্গীর ও তার ব্যক্তিগত সহকারীর মধ্যকার কথোপকথনে হেজা বলছিলেন, মালয়েশিয়ার মেহেদী আছে না? ও বারবার আমাকে ডিস্টার্ব করতেছে। এসএমএস-এ। বিভিন্ন মানুষকে দিয়ে কল করাচ্ছে। তুমি তাকে বলবা ঠিক আছে, আপনি ৫ লাখ টাকা দেন। ম্যাডামকে আমি রাজি করাই। ইউ মেক পলিসি এপ্লাই। বুঝছ? পলিসি মেক না করলে মেকার হতে পারবে না।

 

অপরপ্রান্ত থেকে পিএস বলছিলেন, আজকে কি কল করেছিল ম্যাম? হেজা বলছিলেন, নানান মানুষকে দিয়ে আমাকে ফোন করাচ্ছে। পুলিশ আছে না একটা? অপরপ্রান্ত থেকে বলছে, পারভেজের কথা কি বলে? হেলেনা বলেন, ওর কথা বাদ। তুমি বল মাসে ১ লাখ করে টাকা দেন। ৫/৬ মাস পর আপনাকে ব্যুরো চিফ বানাইয়া দিব মালয়েশিয়ার। আমাদের তো এখন টাকা দরকার। আমাকে দিয়েন না। অফিসকে দেন।

 

হেলেনার বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে র‌্যাব বাদী হয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশান থানায় মামলা দুটি করে। ওই মামলায় হেলেনাকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে গুলশান থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

 

গুলশান থানার পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে উদ্ধার করা মদ, ওয়াকিটকি, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়ার বিষয়ে বন্য প্রাণী আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় আরেকটি মামলা করা হয়।

 

তা ছাড়া অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচারের অভিযোগে হেলেনার নামে পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনে র‌্যাব-৪-এর একজন উপপরিদর্শক (এসআই) গত শুক্রবার রাতে ওই মামলা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *