ঢাকা    ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



ধনীদের সম্পদ লুকিয়ে রাখার দিন শেষ, নতুন নিয়ম করল সরকার

প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২১

ধনীদের সম্পদ লুকিয়ে রাখার দিন শেষ, নতুন নিয়ম করল সরকার

নজর২৪, ঢাকা- আপনার যদি একটি গাড়ি থাকে, তাহলে আপনার নিজের সম্পদের পাশাপাশি স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের হিসাবও দিতে হবে। এবার গাড়িওয়ালাদের স্ত্রী বা স্বামী, নাবালক সন্তান বা পোষ্যদের নামে থাকা সব ধরনের সম্পদ ও দায়ের বিবরণী জানতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

 

কারণ, অনেক গাড়িওয়ালার জীবনযাপন ও আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় স্ত্রী বা সন্তানদের নামে সম্পদ লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ আছে। ফলে করদাতা ও তাঁর পরিবারের প্রকৃত সম্পদ কত, তা জানতে পারেন না কর কর্মকর্তারা।

 

রোববার এনবিআর থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

 

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক বিত্তবান আছেন, যাদের জীবনযাপন তাদের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্ত্রী বা সন্তানদের নামে তারা সম্পদ লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ আছে।

 

ফলে করদাতা ও তার পরিবারের প্রকৃত সম্পদ কত, তা জানতে পারেন না কর কর্মকর্তারা। এভাবে আয় বা সম্পদ লুকিয়ে রেখে কর ফাঁকি দেয়া হচ্ছে।

 

কর ফাঁকি বন্ধে এখন থেকে কোনো ব্যক্তির গাড়ি থাকলে বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পদের তথ্যও বাধ্যতামূলক উল্লেখ করতে হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

 

নিয়ম অনুযায়ী, বিত্তবান করদাতাদের আয়কর রিটার্নের সাথে সম্পদের বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

 

এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, সম্পদ বিবরণী কাদের দাখিল করতে হবে, সে সম্পর্কে আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। যেমন, করদাতার মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা অতিক্রম করলে, একটি মোটরগাড়ির মালিক হলে কিংবা সিটি করপোরেশন এলাকায় গৃহ-সম্পত্তিতে বিনিয়োগ বা অ্যাপার্টমেন্ট থাকলেই সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে হবে।

 

এনবিআর বলেছে, আয়কর রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি বিত্তবান করদাতাদের নিজের নামের পাশাপাশি স্ত্রীর নামে কোথায় কী সম্পদ আছে, তা জানিয়ে বিবরণীও জমা দিতে হবে।

 

এর জন্য এনবিআরের নির্ধারিত পৃথক একটি ফরম আছে, যা আইটি ১০-বি নামে পরিচিত। সেখানে করদাতার স্ত্রীর সম্পদের তথ্যের পাশাপাশি সন্তানের শিক্ষার খরচ, বিদেশ ভ্রমণ, সামাজিক অনুষ্ঠান, উপহার সামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের তথ্যও দিতে হবে।

 

আরও পড়ুন-

নিজে ২ ডোজ টিকা নিয়ে ফেসবুকে যা লিখলেন মিজানুর রহমান আজহারী

 

নজর২৪ ডেস্ক- কোভিড- ১৯ করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়ার ব্যাপারে সচেতন করছেন দেশের প্রখ্যাত আলেম ও সুবক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

 

সোমবার (০২ আগস্ট) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে ভ্যাকসিন নেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দেন।তিনি বলেন-

 

 

সার্বিক বিবেচনায় ভ্যাকসিন নেয়াটাই নিরাপদ, তাই ভ্যাকসিন নিন

আলহামদুলিল্লাহ, আজ মালয়েশিয়াতে করোনা ভ্যাকসিন— ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করলাম। আল্লাহ তাআলা টিকার সব ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে আমাদের মুক্ত রাখুন। এর পুরোপুরি উপকার আমাদের নসিব করুন।

 

মালয়েশিয়াতে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম বেশ দ্রুত গতিতে চলছে। এটা খুব ইতিবাচক দিক। আপনারা যারা এখনো ভ্যাকসিন নেননি, সম্ভব হলে দ্রুত নিয়ে নিন। যতো দ্রুত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শেষ হবে, ততো দ্রুত সংক্রমণ কমে আসবে এবং আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

 

ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা ভিন্ন ভিন্ন হলেও, সব ভ্যাকসিন একটা কাজ করতে প্রায় শতভাগ সক্ষম। আর সেটা হচ্ছে— শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা আপনাকে অতি মাত্রায় অসুস্থ হওয়া এবং সংকটাপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করবে। সুতরাং যে ভ্যাকসিনই আগে পাবেন, আল্লাহর উপর ভরসা করে সেটাই নিয়ে নিন।

 

ভ্যাকসিনের দুই ডোজ নেয়ার পরেও, নিয়মিত মাস্ক পড়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই নিরাপদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এমনটাই বলছে। বিশেষ করে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করাটা অত্যন্ত জরুরী। কারণ ভ্যাকসিন আপনাকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারবে না।

 

ভ্যাকসিনের কাজ হলো শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করা। ভ্যাকসিন নেয়া থাকলে, আপনি আক্রান্ত হলেও হয়তো ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে পড়তে হবে না। অথবা আপনি করোনা ভাইরাস বহনকারী হলেও, ভ্যাকসিন নেয়ার কারণে হয়তো নিজে আক্রান্ত হবেন না, কিন্তু ভ্যাকসিন নেয়নি এমন লোকদের সংস্পর্শে গেলে, আপনার মাধ্যমে তারা আক্রান্ত হতে পারে।

 

তাই, কোন দেশের বেশিরভাগ মানুষের টিকা দেয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে, শুধুমাত্র তখনই কেবল মাস্কের বাধ্যবাদকতা উঠিয়ে নেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করা যেতে পারে। তা না হলে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমেও খুব বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। তাই, এই মুহূর্তে প্রতিটি দেশে গণ টিকার বিকল্প নেই।

 

তবে মনে রাখতে হবে, টিকা হচ্ছে ওয়াসিলা। প্রকৃত সুরক্ষাদাতা হচ্ছেন মহান আল্লাহ তাআলা। তাই তার উপরই আমাদের সকল আস্থা ও ভরসা। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখুন। নিরাপদে রাখুন। করোনা মহামারি থেকে মুক্তি দিন।