নজর২৪ ডেস্ক- দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে সংক্রমণ। চলতি জুলাইয়ের প্রথম ৭ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। একই সময় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বলা হচ্ছে, এরকম অস্বাভাবিক হারে রোগী বাড়তে থাকলে চিকিৎসাসেবা ও অক্সিজেন সরবরাহ চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে করোনার লাগাম টানতে প্রয়োজনে কারফিউ জারির পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই সপ্তাহের পরিপূর্ণ লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখতে প্রয়োজনে কারফিউ জারি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি দৈনিক কমপক্ষে এক লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা করা, একজন আক্রান্ত হলে পুরো পরিবারকে আইসোলেশনে রাখারও পরামর্শ দেন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করেছেন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কয়েক মাস পড় থেকে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকলেও চলতি বছরের মার্চ থেকে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় টানা বিধিনিষেধ চলছে।
চলমান করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় গত ঈদুল ফিতরের পরপর। ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে রোগী দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে তা আশপাশের জেলায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যু ও শনাক্তের হার কয়েক গুণ বেড়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ দুই সপ্তাহের লকডাউনের কথা বলছি। আমি লকডাউন থেকে আবার লকডাউনের কথা বলছি। এই সময়ে কারফিউ দিয়ে সবাইকে একদম ঘরে আটকে রাখার কথা বলব। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সময়টাতে মানুষকে দুই সপ্তাহ ঘরবন্দি রাখতে হবে। যেসব পরিবারের করোনা সংক্রমণ হয় সেসব পরিবারের বাজারের কিংবা ওষুধ সরবরাহ করতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে কাজ করতে হবে। এটাকে আমি বলি গণতদারকি কমিটি। এরা প্রতিটি ওয়ার্ড, বাড়ি ধরে ধরে কাজ করবে।
এ ছাড়া মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক ছাড়া বের হওয়া যাবে না। যাদের মাস্ক কেনার সামর্থ্য নেই তাদের মাস্ক দেওয়া হোক। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এই মাস্কগুলো সরবরাহ করা হোক। একই সঙ্গে যেসব পরিবারে খাবারের অসুবিধা তাদের প্রয়োজনমতো খাবার সরবরাহ করতে হবে।
তিনি বলেন, সর্বাত্মকভাবে লকডাউন না করলে আমরা খুব বেশি সুফল পাব না। কারণ এই মুহূর্তে আমরা গত বছরের মতো ভালো অবস্থানে নেই। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পরিপূর্ণভাবে কারফিউ ধরনের লকডাউন করলে তার সুফল পাওয়া যাবে।
