ব্র্যাক-এশিয়ার পর ঢাকা ব্যাংক থেকেও নিষিদ্ধ ইভ্যালি!

নজর২৪, ঢাকা- ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার পর এবার ঢাকা ব্যাংক থেকেও ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ডে কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে আলোচিত ই-কমার্স সাইট ইভ্যালি ও আলিশা মার্টসহ ১০টি ই-কমার্স সাইটে।

 

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ঢাকা ব্যাংকের গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ‘গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছুসংখ্যক অনলাইন মার্চেন্টে পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার লেনদেন বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ১৬৪৭৪ নাম্বারে কল করে জানতে বলা হয়েছে।

 

ঢাকা ব্যাংকের কল সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মী জানান, আজ থেকে ১০টি ই-কমার্সের সঙ্গে লেনদেন করা যাবে না।’

 

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডট কম বিডি।

 

এর আগে গত দুই দিনে ইভ্যালী ও আলেশা মার্টসহ ১০টি ই-কমার্সের সঙ্গে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ডের লেনদেন বন্ধ করেছে ব্যাংক এশিয়া ও ঢাকা ব্যাংক। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে ইউসিবি, সিটি ব্যাংক এবং লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

 

লংকাবাংলা ফাইন্যান্স গ্রাহকদের বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছে, লংকাবাংলার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কোনো লেনদেন করলে তার দায়ভার তারা বহন করবে না।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নজরদারির বাইরে থাকা ই-কমার্স সাইটগুলোয় উচ্চ মাত্রায় আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি রিপোর্ট পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম অর্থের তুলনায় এসব প্লাটফর্মের দৃশ্যমান তেমন কোনো সম্পদ না থাকার বিষয়টিই সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল।

 

রিপোর্টে বলা হয়, অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (ই-কমার্স) ইভ্যালির চলতি সম্পদের পরিমাণ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সম্পদের চেয়ে ৬ গুণের বেশি এই দেনা পরিশোধ করার সক্ষমতা কোম্পানিটির নেই।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, লোকসানে পণ্য বিক্রি করার কারণে ইভ্যালি গ্রাহক থেকে অগ্রিম মূল্য নেওয়ার পরও মার্চেন্টদের কাছে বকেয়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। গ্রাহক ও মার্চেন্টের বকেয়া ক্রমাগত বাড়ার কারণে এক সময় বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা অর্থ না পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং এর ফলে সার্বিকভাবে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এছাড়া কোম্পানিটি চলতি দায় ও লোকসানের দুষ্ট চক্রে বাঁধা পড়েছে’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ‘ক্রমাগতভাবে সৃষ্ট দায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব টিকে না থাকার ঝূঁকি তৈরি হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *