পুলিশ কনস্টেবলের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়নি সেই কিশোরী

নজর২৪ ডেস্ক- ফেনীর ফুলগাজীতে তৌহিদুল ইসলাম শাওন নামে একজন পুলিশ কনস্টেবলের ধর্ষণে এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, ডিএনএ টেস্টে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। জামিন পেয়েছেন সেই পুলিশ কনস্টেবল।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফুলগাজী উপজেলার ওই কিশোরী গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এই সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে যখন এলাকায় কানাঘুষা চলছে তখন ওই কিশোরীর মা গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে ফুলগাজি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

 

মামলায় ফুলগাজীর বশিকপুর এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম শাওনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন শাওনের বাবা আমিনুল ইসলাম, মা শানু ও মামা ফিরোজ আহম্মদ বাবু।

 

এরপর ফুলগাজী থানা পুলিশ ২৭ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে মার্চ অন্য ৩ আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও শাওন জামিন পান না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাওনকে চাকরি থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক ছোটন জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই নারীর মা ফুলগাজী থানায় মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, শাওন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। একদিন ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে ফেনী শহরের কোনো একটি বাসায় নিয়ে ফলের রসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে আরও কয়েকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

 

মামলায় যেসব তারিখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব তারিখে অভিযুক্ত শাওন চাকরিতে কর্মরত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আদালতে প্রতিবেদন দিয়ছেন। এ ছাড়া ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে, শাওন ওই কন্যাসন্তানের পিতা নন। আর এ কারণে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ জেবুন্নেছা বুধবার শাওনকে জামিন দেন।

 

ফজলুল হক ছোটন আরও বলেন, আমি বাদীর শাস্তি চাই। শাওনের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই। ওই কিশোরী তার সন্তানকে দত্তক দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে।

 

শাওনের মা সাহেনা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে সাজানো মামলায় অসম্মান করা হয়েছে। চাকরিচ্যূত করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সাজানো মামলার বাদীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

 

শাওনের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেও পুলিশে চাকরি করেছি। আমার ছেলে পুলিশ। তারা শুধু আমাদের অসম্মান করেননি। গোটা পুলিশ পরিবারকে অসম্মান করেছেন। আমি তাদের শাস্তি চাই। ওই পরিবার অনেক মানুষকে মামলায় ফাঁসিয়েছে। তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করা উচিত।’

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী নূরুল আফসার মুকুল দাবি করেন ডিএনএ টেস্টে অসংগতি আছে। আমরা ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় আবেদন করেছি। তিনি আরও বলেন, তা হলে এই সন্তানের পিতা কে তা সরকারকে বের করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করার দাবি করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *