নজর২৪, ঢাকা- আলেমদের সম্পদের হিসাব চাওয়ার আগে জাতীয় সংসদ সদস্যদের সম্পদের হিসাব নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার দুপুরে হজ ব্যবস্থাপনা বিল পাসের আগে সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আলেমদের আগে সাড়ে ৩০০ এমপির বিরুদ্ধে দুদক থেকে নোটিশ হওয়া উচিত ছিল।’
গত ৯ জুন কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ৪৪ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একটি গোয়েন্দা সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এসব ব্যক্তির ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হয়।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘শীর্ষ প্রায় ৫৭ জন আলেমের বিরুদ্ধে দুদক নোটিশ করে সম্পদের হিসাব চেয়েছে। আমি তো মনে করি, আগে আমাদের এই সংসদে সাড়ে ৩০০ জন সদস্য যারা রয়েছি সর্ব প্রথম এই সাড়ে ৩০০ এমপির বিরুদ্ধে দুদক থেকে নোটিশ হওয়া উচিত ছিল। তাহলে এটি সারা দেশের মানুষের কাছে সমাদৃত হত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ মানুষ গ্রহণ করত। প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।’
বিএনপির এই সাংসদ বলেন, সত্য কথা বললে স্বাভাবিক কারণে অনেকে বেজার হয়। সত্য কথাটা আসলেই কঠিন। আমরা আলেম কাকে বলব? আলেম-ওলামা তারাই যারা একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে কুরআন এবং হাদিসের আলোকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করেন। কোনো মসজিদের ইমাম কিন্তু আলেম নয়।
‘উদ্বেগের সঙ্গে বলছি। আমি যখন ছাত্র অবস্থায় ছিলাম, আমাদের যারা গুরুজন তারা আমাদেরকে বলতেন এই বিষয়গুলো প্রতি খুব সতর্ক থাকতে হবে। সমাজে যদি সত্যিকার অর্থে আলেম-ওলামারা ক্রিটিসাইজ হয়, সমালোচিত হয়, তাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়। অবশ্যই আমি বলব সমাজের উদ্বেগ এবং অস্থিরতা বাড়বে।’
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আলেমদের বিরুদ্ধে সরকারের ধরপাকড়ের বিষয়টি তুলে ধরে হারুনুর রশীদ সংসদকে বলেন, ‘আলেমরা কিন্তু সাংঘাতিক নিপীড়নের মধ্যে আছে। যে সমস্ত আলেমরা রিমান্ড, গ্রেপ্তারের সম্মুখীন হয়েছেন আপনি তাদেরকে মুক্তি দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে আছেন, আপনি তাদেরকে মুক্তি দিন। তা না হলে দেশে উদ্বেগ এবং ভারসাম্যহীন অবস্থার তৈরি হবে।’
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের ধর্মীয় তাফসীর বন্ধ করে দিয়েছেন। সংবিধানে বলা হচ্ছে কোনো বাধা দেয়া হবে না। কিন্তু গত চারদিন যাবত আমাদের একজন বিশিষ্ট আলেম মোহাম্মদ আদনান (আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানে) নিখোঁজ, তার পরিবার তার সন্ধান দাবি করছে।
পরীমনি ইস্যুতে সরকার যেভাবে তৎপর হয়েছে নিখোঁজ আবু ত্ব-হার তেমন কিছু দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, ‘পরীমণির মামলা নেয়া হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি ত্ব-হার পরিবারের। সেই সৌভাগ্য হয়নি বাংলাদেশের ৬০৪টি পরিবারের, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। তাদের ব্যাপারে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু বলতে পারছে, না স্থানীয় পুলিশ স্টেশন কিছু বলতে পারছে, না সে ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
